প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাজশাহীর সার্কিট হাউসে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ভূমি খাতের কোনো দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তিনি জানান, জনগণের পাশে থেকে তাদের ভাগ্য উন্নয়নের কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মন্ত্রী জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণের আস্থার সঙ্গে মেলানো সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি ও মনিটরিং ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সঠিকভাবে পৌঁছাক এবং কেউ যেন অবৈধভাবে সুবিধা নিতে না পারে।’
ভূমি মন্ত্রী আরও বলেন, তার আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন রাজশাহী বিএনপির সাবেক সাংসদ কবির হোসেন। তাঁর কাছ থেকে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দিকের কার্যক্রম সম্পর্কে অনেক কিছু শিখেছেন এবং বর্তমান দায়িত্বে আরও দক্ষভাবে সেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। মন্ত্রী মনে করেন, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় জ্ঞানের সমন্বয়ে দুর্নীতি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।
এসময় মন্ত্রী সার্কিট হাউসের সভাকক্ষে বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় মন্ত্রী দুর্নীতি প্রতিরোধ, ভূমি সেবার মান উন্নয়ন এবং নতুন প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পদক্ষেপের মাধ্যমে সেবা সহজতর করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
মন্ত্রী এসময় সকল কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন, ভূমি অধিগ্রহণ, সার্ভে ও রেকর্ড সংরক্ষণসহ প্রতিটি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, ‘ভূমি সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ অবিলম্বে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং সাধারণ মানুষ যেন দুঃখ-বিষাদ না ভোগে তা নিশ্চিত করতে হবে।’
অধিকন্তু, মন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন ও ভূমি খাতে সেবা প্রদান মানেই প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও দায়িত্বশীল করা। আধুনিক প্রযুক্তি, অনলাইন সেবা ও প্রতিটি কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হলে দুর্নীতি কমানো সম্ভব। তিনি কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, কেউ যদি অযাচিত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে বা দুর্নীতিতে লিপ্ত হয়, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, ভূমি সংক্রান্ত ডিজিটালাইজেশন এবং সার্ভে ও রেকর্ড ব্যবস্থার আধুনিকায়ন সম্পর্কেও বিস্তারিত অবহিত হন। মন্ত্রী নিশ্চিত করেন যে, সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হবে, যাতে জনগণ সহজে এবং দ্রুত সেবা পায়।
ভূমি মন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারি মূলত সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিফলন। ভূমি অধিগ্রহণ, খতিয়ান আপডেট এবং সার্ভে ব্যবস্থায় সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকারি সেবা জনগণের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।
মন্ত্রী আশ্বাস দেন, ‘আমরা নিশ্চিত করব যে কোনো ধরনের দুর্নীতি আর থাকবে না। জনগণ যেন প্রকৃত অধিকার পায় এবং ভূমি খাতের সমস্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ হয়।’ তিনি এই দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভূমি মন্ত্রীর এই বক্তব্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে, কারণ রাজশাহী অঞ্চলে ভূমি সংক্রান্ত সমস্যা এবং দুর্নীতির অভিযোগ প্রায়শই সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে। সরকারের পক্ষ থেকে এই হুঁশিয়ারি প্রশাসনকে সতর্ক করার পাশাপাশি জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মন্ত্রী সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করবেন এবং প্রয়োজনে বিভাগীয় ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনও ছাড় দেবেন না। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট হয়েছে যে, ভূমি খাতের সেবা জনগণের জন্য সহজ, নির্ভরযোগ্য এবং দুর্নীতি মুক্ত হবে।