প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার খোর্দ্দ মোজাহিদপুর গ্রামে বৃহস্পতিবার ভোররাতে জনতার হাতে দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই দুই ব্যক্তি এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, যা নজরে আসে স্থানীয়দের। এরপর এলাকার মানুষ দ্রুত তাদের চারপাশে সমবেত হয়ে তাদের আটক করে গণধোলাই শুরু করেন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটনাস্থলেই দুই ব্যক্তি মারা যান।
সাদুল্যাপুর থানার ওসি আব্দুল আলিম জানান, “জনতার হাতে দুই ছিনতাইকারী নিহত হয়েছেন। আমরা খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।” পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতদের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে লাশ সঠিকভাবে শনাক্ত করার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ভোরের প্রথম আলো উঠার আগেই গ্রামে ডাকাতদলের উপস্থিতি নিয়ে চিৎকার এবং হট্টগোল শুরু হয়। গ্রামবাসীরা তাদের বাড়ি-বাড়ি থেকে ছুটে এসে ডাকাতদলের চারপাশ ঘেরাও করে। জনতার ক্ষিপ্র প্রতিক্রিয়ার ফলে ঘটনাস্থলেই ছিনতাইকারীরা প্রাণ হারান। এই ধরনের ঘটনার পর সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাদুল্যাপুরের মতো গ্রামীণ এলাকায় এই ধরনের ঘটনা মাঝে মাঝে ঘটে, যেখানে স্থানীয় জনগণ স্ব-রক্ষার জন্য সক্রিয় ভূমিকা নেয়। যদিও এই ধরনের গণধোলাইয় যুক্ত হওয়ার ঘটনা আইনগতভাবে সংবিধান অনুসারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে, তা সমাজে অপরাধ কমাতে কিছুটা কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাড়িয়ে জনসাধারণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন।
গ্রামের সাধারণ মানুষ জানান, এলাকায় অপরাধীর উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই তাদের নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করছে। প্রতিদিনই ছিনতাই, চুরি ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ায় তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছে। তবে এই ঘটনা তাদের মধ্যে একটি স্বস্তির বার্তা দিয়েছে যে তারা নিজ উদ্যোগে প্রতিরোধ করতে সক্ষম, যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
সাদুল্যাপুর থানার পুলিশ জানিয়েছে, আহত বা আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকা অন্য কোনো ব্যক্তি নেই। নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া এবং যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামে জনতার হাতে হত্যাকাণ্ড ঘটলেও এটি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয় এবং আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়া অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। পুলিশ ও প্রশাসনের দায়িত্ব হলো, যেকোনো সহিংসতা বা অপরাধের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করা এবং বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনা।
গ্রামের অন্যান্য বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা এই ঘটনায় চাঞ্চল্যপূর্ণ হলেও আশ্বস্ত, কারণ এলাকার নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তারা আশা করছেন, এ ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটবে না এবং প্রশাসনের তৎপরতায় গ্রামের মানুষ নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারবে।
নিরাপত্তা ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিচয় নির্ধারণ ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, গ্রামে অপরাধ দমন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আরও কার্যক্রম চালানো হবে।