প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে। আসন্ন উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিতে ইচ্ছুক পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ কার্যক্রম আগামী ১ মার্চ থেকে শুরু হয়ে চলবে ৯ মার্চ পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে এবং সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিলম্ব ফিসহ বাড়তি সুযোগ রাখা হলেও নির্দিষ্ট সময়ের পর আর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ, যারা সম্প্রতি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিয়মিত সময়সীমার মধ্যে ফরম পূরণ না করতে পারা শিক্ষার্থীদের জন্য ১১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিলম্ব ফিসহ আবেদন করার সুযোগ থাকবে। এই সময়ের মধ্যেই নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে অর্থ জমা দেওয়ার সুবিধা রাখা হয়েছে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা সহজেই আবেদন সম্পন্ন করতে পারে। কর্তৃপক্ষের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া চালু থাকায় আগের তুলনায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমেছে এবং সময়ও সাশ্রয় হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কেবল বৈধ রেজিস্ট্রেশনধারী পরীক্ষার্থীরাই আবেদন ফরম পূরণ করতে পারবেন। অর্থাৎ যেসব শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদিত নিবন্ধন সম্পন্ন করেনি বা যাদের নিবন্ধন তথ্য অসম্পূর্ণ, তারা এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে না। এছাড়া কোনো পরীক্ষার্থী যদি তার নিবন্ধনভুক্ত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার চেষ্টা করে, তবে সেই পরীক্ষাটি কোনো পূর্ব নোটিশ বা যোগাযোগ ছাড়াই বাতিল বলে গণ্য হবে। এই নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বনের বার্তা দিচ্ছে এবং বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য জরুরি।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এইচএসসি পরীক্ষা দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ায় ফরম পূরণ প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। কারণ এই ধাপেই পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, বিষয় নির্বাচন, কেন্দ্র নির্বাচনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়, যা পরবর্তীতে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়। ফলে এই পর্যায়ে কোনো ভুল হলে তা সংশোধন করতে শিক্ষার্থীদের নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়। তাই সংশ্লিষ্টরা শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নিবন্ধিত শারীরিকভাবে অক্ষম, সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত অথবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে নির্বাচনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের শর্ত শিথিলযোগ্য হতে পারে। এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, কারণ এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন নীতিমালা শিক্ষাব্যবস্থাকে মানবিক করে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা সম্পর্কেও বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করতে প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্ট নিতে পারবে। তবে এসব পরীক্ষা কোনো শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা যাবে না এবং এর জন্য অতিরিক্ত ফি আদায় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই নির্দেশনা শিক্ষার্থীদের ওপর অযথা আর্থিক চাপ কমাবে এবং কোচিং বা অতিরিক্ত পরীক্ষার নামে অনৈতিক অর্থ আদায়ের প্রবণতা রোধ করবে।
অভিভাবকদের অনেকেই জানিয়েছেন, পরীক্ষার আগে এমন স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলে তারা সন্তানদের প্রস্তুতি পরিকল্পনা সাজাতে সুবিধা পান। বিশেষ করে ফরম পূরণের সময়সীমা ও নিয়মাবলি আগে থেকে জানা থাকলে শেষ মুহূর্তের চাপ বা ভুলের সম্ভাবনা কমে যায়। অনেক শিক্ষার্থীও মনে করছে, সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করতে পারলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়া সম্ভব হয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমানে অনলাইনভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা চালু থাকায় গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও সমানভাবে সুবিধা পাচ্ছে। আগে যেখানে ফরম পূরণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বারবার যেতে হতো, এখন অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান থেকেই আবেদন সম্পন্ন করা যায় অথবা নির্দিষ্ট সেবার মাধ্যমে ঘরে বসেও করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে। তারা মনে করছেন, ডিজিটাল পদ্ধতির এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে।
এইচএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপও কম নয়। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সময়মতো আবেদন সম্পন্ন করা এবং নিয়মাবলি ভালোভাবে অনুসরণ করলে অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এড়ানো যায়। তাই শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার প্রশাসনিক ধাপগুলো যত বেশি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে, শিক্ষার্থীদের আস্থা তত বাড়বে এবং ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন করা সহজ হবে। এই কারণেই বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়সূচি ও নির্দেশনা প্রকাশ করে থাকে এবং নিয়ম ভঙ্গের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণ প্রক্রিয়া নিয়ে ঘোষিত সময়সূচি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশনা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা, বিষয় নির্বাচন সতর্কতার সঙ্গে করা এবং বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে পরীক্ষার্থীরা নিশ্চিন্তে তাদের মূল প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে পারবে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পরিকল্পিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এবারের পরীক্ষাও সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ এই ধাপটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অতিক্রম করতে পারবে।