ভোটে গণতন্ত্র ফিরেছে: চট্টগ্রামে অর্থমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে এসেছে

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার দুপুরে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নির্বাচিত সংসদ ও সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এখন জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সম্মিলিতভাবে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই। মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই ছিল তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর, ফলে তার এই সফরকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা যায়। স্বাগত অনুষ্ঠানের মধ্যেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনরুজ্জীবিত হয়েছে এবং এখন দেশের উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। তার ভাষায়, গণতন্ত্র শুধু ভোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই পূর্ণতা পায়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ নতুন সরকারের কাছে উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। এসব প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি মনে করেন, উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্য অপরিহার্য এবং তা নিশ্চিত করা গেলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে। তার মতে, রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন প্রশাসনিক দক্ষতা ও নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা।

চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শুধু একটি আঞ্চলিক শহর নয়; এটি দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বন্দরনির্ভর এই নগরীর উন্নয়ন মানে পুরো বাংলাদেশ এর উন্নয়ন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তরের বিষয়টি বহুদিনের আলোচ্য বিষয় এবং এটি বাস্তবায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ পরিবেশ সৃষ্টি, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণসহ নানা খাতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাণিজ্যিক রাজধানীর ধারণা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, একটি শহরকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে শুধু শিল্পকারখানা বা বন্দর সুবিধা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সমন্বিত অর্থনৈতিক কাঠামো, আন্তর্জাতিক মানের লজিস্টিক ব্যবস্থা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ। এসব বিষয়কে সামনে রেখে সরকার কাজ করবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, সম্ভাবনা আছে, চ্যালেঞ্জও আছে; তবে পরিকল্পনা ও সহযোগিতা থাকলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর চট্টগ্রাম সফর এবং সেখানে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মন্ত্রী একদিকে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নকেন্দ্রিক অগ্রাধিকারের ইঙ্গিতও দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনগণের আস্থা ধরে রাখা। এ অবস্থায় দেশের প্রধান বাণিজ্যিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলের অনেকেই মনে করেন, চট্টগ্রামকে সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো, দ্রুতগামী যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং শিল্পাঞ্চল সম্প্রসারণ জরুরি। তাদের মতে, সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়ায়, তবে চট্টগ্রাম শুধু দেশের নয়, আঞ্চলিক বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে তারা আশাবাদী হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী নেতা।

মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকা প্রয়োজন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার এমন নীতি গ্রহণে আগ্রহী যা বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়ন বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।

তার সফরের অংশ হিসেবে দুপুর আড়াইটায় নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে তিনি স্থানীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, এই বৈঠকে আগামী দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের মাঠপর্যায়ে সফর সাধারণত প্রশাসনিক বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করার কৌশল হিসেবেও বিবেচিত হয়। এতে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয় এবং সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা একজন মন্ত্রীর আঞ্চলিক সফর স্থানীয় উন্নয়ন প্রত্যাশাকে আরও উজ্জীবিত করে।

সামগ্রিকভাবে তার বক্তব্যে যে বার্তা উঠে এসেছে তা হলো, নির্বাচনোত্তর সময়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে দেশের উন্নয়ন ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব। তার এই মন্তব্যকে অনেকেই নির্বাচনের পর সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত