রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
প্রধানমন্ত্রীর শহীদ মিনার শ্রদ্ধা

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী হিসেবে তার এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি জাতির পক্ষ থেকে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দিবসটি ঘিরে সারাদেশে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

রাষ্ট্রীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের প্রথম প্রহরে প্রধানমন্ত্রী শহীদ মিনারে পৌঁছে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন এবং শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করবেন। এরপর রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানাবেন। প্রতিবছরের মতো এবারও লাখো মানুষের অংশগ্রহণে ভাষা শহীদদের স্মরণে জাতীয় আবেগের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দিবসটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা এ কে এম শহিদুর রহমান এক ব্রিফিংয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি নেই। তবে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দিবস হওয়ায় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

তিনি জানান, শহীদ মিনারকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বলয় ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। পুরো এলাকা কয়েকটি নিরাপত্তা স্তরে ভাগ করে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিশেষ করে রাতের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ভিভিআইপি ও ভিআইপি ব্যক্তিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শহীদ মিনার এলাকায় আগেই বোমা নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এসব ইউনিট সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্তে দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। পাশাপাশি সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষায়িত ফোর্স, যারা জরুরি পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে সক্ষম। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে যাতে বড় জনসমাগমের মধ্যেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ছাত্র ও সাধারণ মানুষ যে আত্মত্যাগ করেছিলেন, তা বিশ্ব ইতিহাসে ভাষার অধিকারের অন্যতম অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বীকৃত। সেই আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতেই শহীদ মিনারে মানুষের ঢল নামে। ফুল, গান, কবিতা ও শ্রদ্ধার নীরবতায় তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ, যেখানে ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে জাতীয় পরিচয়।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের উপস্থিতি এই অনুষ্ঠানকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে। এতে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতি আস্থা বাড়ে এবং নতুন প্রজন্ম ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হওয়ার সুযোগ পায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষা শহীদদের স্মরণ শুধু অতীতের ঘটনা স্মরণ নয়; এটি বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশপথে তল্লাশি এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী দর্শনার্থীদের প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধরে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে সবাই নির্বিঘ্নে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। রাতের কর্মসূচি শেষে সকাল থেকে বিভিন্ন সংগঠন গান, আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করবে, যা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শিক্ষাবিদদের মতে, এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল করে তোলে এবং তাদের জাতীয় পরিচয়ের বোধ জাগ্রত করে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও দিবসটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে শহীদ মিনারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কেউ ফুল কিনছেন, কেউ তৈরি করছেন ব্যানার বা প্ল্যাকার্ড। তাদের মতে, এই দিনটি শুধু রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়; এটি ব্যক্তিগত আবেগেরও দিন। ভাষার জন্য আত্মদানকারীদের স্মরণ করা মানে নিজের অস্তিত্বের শিকড়কে স্মরণ করা।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় আয়োজন, কঠোর নিরাপত্তা ও জনসাধারণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে এবারের শহীদ দিবসও শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে পালিত হবে। প্রধানমন্ত্রী রাতের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধা নিবেদন করার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির সূচনা হবে এবং তার পরপরই শুরু হবে জনসাধারণের অংশগ্রহণে শ্রদ্ধার ধারাবাহিকতা। এই ধারাবাহিকতাই প্রমাণ করে, ভাষা শহীদদের স্মৃতি বাঙালি জাতির চেতনায় অম্লান এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত