স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হবে সিন্ডিকেটমুক্ত, সেবা পৌঁছাবে দোরগোড়ায়

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের ঘোষণায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হবে দুর্নীতিমুক্ত, ডাক্তাররা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে চিকিৎসা প্রদান নিশ্চিত হবে।

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সম্পূর্ণ সিন্ডিকেটমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যাতে ডাক্তারের পেছনে ছুটে না ঘোরে, বরং ডাক্তারই জনগণের কাছে পৌঁছাবে। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, এটি তার মন্ত্রণালয়ের প্রধান অঙ্গীকার।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদীতে নিজের নির্বাচনী এলাকা নরসিংদী-৪-এর বাড়িতে প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী এই প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন তাদের প্রতিও দায় রয়েছে, যারা ভোট দেননি তাদের প্রতিও সমভাবে দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য সকল প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে, রাজনৈতিক কোনো অসৎ চিন্তা ছাড়াই, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে নিয়ে নতুন সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গঠন করা।’

মন্ত্রী আরও জানান, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে নরসিংদীসহ যেখানে প্রয়োজন সেখানে মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। এছাড়া নরসিংদীর জন্য তিনি দুটি আইসিইউ ইউনিট গড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এতে স্থানীয় মানুষজন উন্নত মানের জরুরি ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, জনগণকে সময়োপযোগী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানই তার মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার প্রথম নরসিংদী সফর। সকালে নিজ বাড়িতে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করেন এলাকাবাসী, দলীয় নেতাকর্মী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রশাসনের কর্মকর্তা। স্থানীয়রা জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলাপ-পর্যালোচনা হওয়ায় তাদের আশা ও প্রত্যাশা সরকারের নীতি প্রণয়ন ও পরিকল্পনায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।

সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সিন্ডিকেট ও দুর্নীতিমুক্তিকরণ শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, এটি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জনের একটি প্রধান উপায়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের অন্যতম দায়িত্ব এবং এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য সকল ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনগণের কল্যাণে নিয়োজিত করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ধরনের লভ্যলাভমূলক সিন্ডিকেট বা অসৎ প্রথা সহ্য করা হবে না। স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি কর্মসূচি, ঔষধের সরবরাহ, হাসপাতাল পরিচালনা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ—সবকিছু স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সম্পন্ন করতে হবে।

এছাড়া তিনি জনগণের সরাসরি প্রাপ্য সেবার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বলেন, মানুষ যাতে সময়মতো ডাক্তারি সেবা পান, তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছানোর জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার, টেলিমেডিসিন ও স্থানীয় ক্লিনিকগুলোর সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে করে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা পাবেন।

নরসিংদীর স্থানীয়রা জানান, মন্ত্রীর এই ঘোষণা তাদের মধ্যে নতুন আশা সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত মন্ত্রণালয় তৈরি হলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও বাড়বে। এটি শুধু সেবা নিশ্চিত করবে না, বরং স্বাস্থ্য খাতের মানও উন্নত হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, স্বাস্থ্য খাতকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একদিকে দুর্নীতিমুক্ত হবে, অন্যদিকে মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

শরীরের সুস্থতা, রোগ প্রতিরোধ ও জরুরি চিকিৎসার উন্নয়নে সরকারী উদ্যোগ এবং দুর্নীতি-সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ শুধু প্রশাসনের দায়িত্ব নয়, বরং এটি মানুষের আস্থা ও জীবনমান উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, সকল প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ নেয়া হবে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসা সুবিধা পায়।

সংক্ষেপে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুলের এই সফর ও ঘোষণা স্বাস্থ্যখাতে দূর্নীতি ও সিন্ডিকেটমুক্তি, জনগণের প্রাপ্য সেবা নিশ্চিতকরণ এবং নরসিংদীসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত চিকিৎসা পৌঁছানোর দিক নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি সরকারের স্বাস্থ্যনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা ও জনসেবা সুনিশ্চিত করার দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত