শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, একুশে আবেগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
শহীদ মিনারে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা, একুশে আবেগ

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলা ভাষার মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় নত হলো জাতি। মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-এর প্রথম প্রহরে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষার জন্য আত্মদানকারী শহীদদের স্মরণে এ সময় পুরো শহীদ মিনার এলাকা পরিণত হয় এক আবেগঘন পরিবেশে, যেখানে ছিল শোক, গর্ব, কৃতজ্ঞতা ও অঙ্গীকারের সম্মিলিত প্রকাশ।

শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা এক মিনিটে একুশের সূচনা মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাষ্ট্রপতির পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান এবং তাদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য উপলব্ধি করে গভীর ভাবনায় মগ্ন থাকতে দেখা যায়।

শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে অনুষ্ঠিত বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাতে তিনি শুধু ভাষা শহীদদের জন্যই নয়, দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও জনগণের কল্যাণ কামনা করেন। তার সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মোনাজাতে অংশ নেন। পুরো শহীদ মিনার এলাকা তখন পরিণত হয় এক নীরব, শোকাভিভূত অথচ গর্বিত জনসমুদ্রে।

মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিসভার সদস্য ও তার উপদেষ্টাদের সঙ্গে নিয়ে আবারও শহীদ বেদিতে ফুল দেন। এরপর একে একে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এগিয়ে আসেন। এ সময় বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর শীর্ষ নেতারা, যারা দলের পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

একুশের প্রথম প্রহরের এই শ্রদ্ধা নিবেদনের অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের এক গভীর প্রতীক। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি তাদের ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংগ্রাম করেছে, তা আজও জাতির চেতনার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ অগণিত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে বাংলা ভাষার মর্যাদা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কেবল রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক ও নৈতিক অঙ্গীকার, যা জাতির নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। তারা মনে করেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার পথে অগ্রসর হয়েছে এবং আজকের আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

শহীদ মিনার এলাকায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যেও ছিল গভীর আবেগ। কেউ ফুল হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন, কেউ নীরবে প্রার্থনা করছিলেন, আবার কেউ শহীদদের স্মরণে চোখের জল মুছছিলেন। অনেক তরুণ-তরুণী হাতে জাতীয় পতাকা ও কালো ব্যাজ ধারণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তাদের অনেকেই বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কারণেই তারা আজ নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছেন, লিখতে পারছেন এবং নিজেদের সংস্কৃতি প্রকাশ করতে পারছেন।

এদিকে একুশের এই আয়োজনকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে নেওয়া হয় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহীদ মিনার এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখেন, যাতে শ্রদ্ধা নিবেদন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্বেচ্ছাসেবীরাও দায়িত্ব পালন করেন।

ভাষা আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিশ্বজুড়ে মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে স্বীকৃত। আজ বাংলাদেশ-এর ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিশ্ববাসীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউনেস্কো একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার মাধ্যমে এই আন্দোলনের বৈশ্বিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের এই মুহূর্তটি শুধু একটি রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি নয়, বরং এটি ছিল জাতির ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতীক। ভাষা শহীদদের আত্মদান আজও বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মকে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

একুশের এই প্রথম প্রহরে শহীদ মিনারের পাদদেশে দাঁড়িয়ে আবারও প্রতিধ্বনিত হয়েছে সেই অমর প্রতিজ্ঞা—বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় বাঙালি জাতি সবসময় অটল থাকবে। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যাবে না, বরং তা জাতির পথচলার প্রেরণা হয়ে থাকবে চিরকাল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত