প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ব্রাজিলিয়ান ফুটবল সুপারস্টার নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও শুরু হয়েছে জল্পনা। বর্তমানে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন এই তারকা, তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন চলতি বছরের শেষের দিকে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার বিষয়ে ভাবতে পারেন। নেইমারের এই মন্তব্য ফুটবল বিশ্বে নতুন বিতর্ক ও আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
গত কয়েক বছর নেইমারের ক্যারিয়ারে চ্যালেঞ্জের সময় ছিল। একাধিক চোট ও হাঁটুর অস্ত্রোপচার তার মাঠে ফিরে আসার সময়কে দীর্ঘায়িত করেছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহে দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর তিনি মাঠে ফিরেছেন। এ প্রক্রিয়ার মধ্যে নেইমারের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি ফুটবল ভক্তদের জন্য অনুপ্রেরণার বিষয় হলেও, তার ভবিষ্যৎ নিয়ে uncertainty সৃষ্টি করেছে।
২০১৭ সালে নেইমারের বার্সেলোনা থেকে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ট্রান্সফার ছিল ২০০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফি হিসেবে রেকর্ডে রয়েছে। পিএসজি অধ্যায়ে চোট-সংকটের কারণে তাকে ধারাবাহিকভাবে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল হিলাল ছেড়ে সে তার শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফিরে আসে। যদিও চুক্তি ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, হাঁটুর অস্ত্রোপচার ও পুনর্বাসনের কারণে তিনি মৌসুমের শুরু মিস করেন।
নেইমার সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি জানি না সামনে কী হবে। ডিসেম্বর এলে হয়তো অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। সবকিছু আমার মনের ওপর নির্ভর করছে। এখন থেকে ধাপে ধাপে এগোব।” এই মন্তব্য ফুটবল ভক্তদের মধ্যে জোরাল আলোচনা তৈরি করেছে—২০২৬ সালের শেষে তিনি কি সত্যিই পেশাদার ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন?
জাতীয় দলের হয়ে নেইমার ৭৯ গোল করে ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে কিংবদন্তি পেলেকে ছাড়িয়ে রেকর্ড গড়েছেন। তবে সর্বশেষ তিনি জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল দলের জায়গা করে নেওয়া তার জন্য চ্যালেঞ্জ হবে, তবে ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির অধীনে সে কঠোর পরিশ্রম করে দলে ফিরে আসতে চায়। নেইমার বলেন, “এই বছরটি আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সান্তোস নয়, ব্রাজিল জাতীয় দলের জন্যও এটি বিশ্বকাপের বছর। আমি আমার সেরাটা দিতে চাই।”
নেইমারের ক্যারিয়ার চ্যালেঞ্জে ভরা হলেও তার অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং মাঠে প্রভাবশালী উপস্থিতি তাকে এখনও ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রধান তারকা হিসেবে ধরে রেখেছে। অবসর নিয়ে তার সিদ্ধান্ত নিলে তা শুধু সান্তোস বা ব্রাজিলের জন্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক ফুটবল জগতেও একটি বড় প্রভাব ফেলবে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেইমারের অবসরের খবর সম্ভাব্য তরুণ খেলোয়ারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর পাশাপাশি নেইমারের অনুপস্থিতি দলের খেলার মান ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তার প্রভাবও উল্লেখযোগ্য হবে।
নেইমারের পিএসজি অধ্যায়, চোটের সঙ্গে লড়াই, সান্তোসে প্রত্যাবর্তন এবং জাতীয় দলে তার অবদান ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার অবসর নেওয়া হলে এই সুপারস্টার বিশ্বকাপ ও ক্লাব ফুটবল উভয় ক্ষেত্রেই একটি যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করবে। তবে যে মন ও দৃষ্টিভঙ্গি নেইমারের রয়েছে, তা ফুটবল প্রেমীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে থাকবে।