পাকিস্তানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
পাকিস্তানে ৫.৯ মাত্রার ভূমিকম্প, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা ৯ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তরের (পিএমডি) তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৯ এবং ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে অবস্থান করছিল। গভীরতা ছিল ১০১ কিলোমিটার। কম্পনের প্রকোপ এতটাই ছিল যে খাইবার পাখতুনখোয়া ও পাঞ্জাবের মানুষজন আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত ঘরবাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডননিউজটিভি জানিয়েছে, শাংলা, সোয়াত, মারদান, সোয়াবি ও নওশেরা জেলায় কম্পন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়েছে। বিশেষ করে শাংলায়, ইফতারের সময় মানুষ কম্পনের তীব্রতা অনুভব করলে আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান। তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন এবং জরুরি পরিষেবা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলে ইউরেশীয় এবং ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের মিলনস্থল রয়েছে। এই মিলনস্থলের কারণে ভূকম্পন সাধারণত শক্তিশালী হয় এবং মাঝে মাঝে প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিন্দুকুশ ও খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা নিয়মিত হলেও এটি নাগরিকদের সতর্ক থাকার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

পিএমডি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এটি মধ্যম মাত্রার, এবং তার ফলে শহরাঞ্চলে প্রাথমিকভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকর্মীরা ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমে জনগণকে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন। জনগণকে ঘরবাড়ি থেকে দ্রুত বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান করতে বলা হচ্ছে।

পাকিস্তানীয় নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, কারণ এই ধরনের ভূমিকম্প সাধারণত প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে ধরা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ভূমিকম্পের সময় নীরব, স্থিতিশীল জায়গায় থাকা এবং উচ্চ ভবন থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে নিরাপদ। প্রাথমিকভাবে প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি বা আহতের কোনো খবর এখনও পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

পাকিস্তান পূর্বে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের সাক্ষী হয়েছে। ২০০৫ সালের কাশমীর ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। এর পর থেকেই ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে সরকারি প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণ সতর্কতা অবলম্বন করছে। ভূমিকম্পের ফলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে, তাই স্থানীয় প্রশাসন এবং উদ্ধারকর্মীরা এখন থেকে আরও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

পিএমডি’র তরফ থেকে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের পর নতুন ঝড় বা আতঙ্কজনক কম্পন হতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে স্থিতিশীল স্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আরও ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নাগরিকদের প্রস্তুতি ও সচেতনতা বৃদ্ধিই সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর সতর্ক বার্তা জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আতঙ্কিত মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসা, প্রাথমিক সহায়তা প্রদান এবং জরুরি পরিষেবার প্রস্তুতি রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়রা ভূমিকম্পের সময় স্থিতিশীল স্থানে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের ভূমিকম্পপ্রবণ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিনিয়ত কম্পনের ঝুঁকি থাকে। ইউরেশীয় ও ভারতীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থল এই অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রবণতা বাড়ায়। তাই সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও সচেতন থাকা আবশ্যক। সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি প্রস্তুতি, উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা সেবা এবং সতর্কবার্তা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে।

এ পরিস্থিতি স্থানীয় মানুষদের জন্য সতর্কতার বার্তা ছাড়াও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। পাকিস্তান ভূমিকম্পের প্রভাব সামলাতে প্রস্তুত রয়েছে কিনা তা আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত