অ্যান্ড্রু মুক্ত, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি তদন্ত চলবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
অ্যান্ড্রু মুক্ত, এপস্টেইন কেলেঙ্কারি তদন্ত চলবে

প্রকাশ:  ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পর মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি টেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, অ্যান্ড্রুর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত অব্যাহত থাকবে এবং প্রয়োজনে তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে। গ্রেপ্তারের বিষয়টি ঘটেছে সরকারি দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের কাছে সরকারের সংবেদনশীল নথি পাচারের অভিযোগে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অ্যান্ড্রুকে অবমুক্ত করা হলেও পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। তিনি পরে নরফোকের স্যান্ড্রিংহ্যাম এস্টেটে ফিরে যান। দ্য গার্ডিয়ানের খবর অনুযায়ী, এদিন অ্যান্ড্রু ৬৬ বছরে পদার্পণ করেছেন। জন্মদিনেই তাঁকে টেমস ভ্যালি পুলিশের গোয়েন্দারা দিনের পর দিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একইসাথে বার্কশায়ার ও নরফোকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। অ্যান্ড্রুর সাবেক বাসভবন রয়্যাল লজসহ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকে। পুলিশ জানায়, স্যান্ড্রিংহ্যাম এস্টেটে বর্তমান বাসভবনে তল্লাশি শেষ হলেও উইন্ডসর এস্টেটে অবস্থিত সাবেক বাসভবন রয়্যাল লজে দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান চলছিল।

টেমস ভ্যালি পুলিশ জানায়, অ্যান্ড্রুকে সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবেদনশীল সরকারি নথি ও বাণিজ্যিক তথ্য জেফরি এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, কিছু ই-মেইল এই অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে অ্যান্ড্রু এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন।

গ্রেপ্তারের আগে রাজা চার্লস বা বাকিংহাম প্যালেসকে বিষয়টি জানানো হয়নি। টেমস ভ্যালি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সরাসরি অবহিত করেননি, তবে জাতীয় পুলিশপ্রধানদের কাউন্সিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অল্প সময়ের জন্য তথ্য দেন। এ বিষয়ে রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, “আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।”

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ব্রিটিশ ইতিহাসে রাজপরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা নজিরবিহীন। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রভাষক ক্রেইগ প্রেসকট উল্লেখ করেন, “আধুনিক যুগে এটি রাজপরিবারের কোনো সদস্যের সবচেয়ে বড় অধঃপতন।” ১৬৪৭ সালে ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের সময় রাজা প্রথম চার্লস রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন, যা এর আগে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। এর পাশাপাশি ২০০২ সালে রাজকন্যা অ্যানকে বিপজ্জনক কুকুর আইনে জরিমানা করা হয়েছিল, তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রিন্স ফিলিপের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের কারণে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার ব্রিটিশ রাজপরিবার ও রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে।

এপস্টেইনের সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগীদের জন্য ক্ষতিপূরণও নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, সর্বোচ্চ তিন কোটি ৫০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করা হবে। এই অর্থ ১৯৯৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এপস্টেইনের যৌন নির্যাতন বা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহৃত হবে বলে জানানো হয়েছে। এফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে ভুক্তভোগীরা সামান্য হলেও ন্যায্যতার অনুভূতি পাবেন।

এই ঘটনায় ব্রিটিশ রাজপরিবারের আভিজাত্য ও আধুনিক রাজনীতি নতুনভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাজপরিবারের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এবং গ্রেপ্তার সত্যিই নজিরবিহীন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা হয়েছে এবং ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের গ্রেপ্তার ও মুক্তি, এপস্টেইনের সঙ্গে সংযোগ, সংবেদনশীল নথি পাঠের অভিযোগ, এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো সামগ্রিকভাবে যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা ভবিষ্যতে রাজপরিবারের স্বচ্ছতা, দায়িত্ব ও আইনগত প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থা ও মনোভাবকে প্রভাবিত করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত