শহীদ মিনারে প্রথমবার জামায়াতে শ্রদ্ধা জানালেন ববি হাজ্জাজ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
শহীদ মিনারে প্রথমবার জামায়াতে শ্রদ্ধা জানালেন ববি হাজ্জাজ

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শুক্রবারের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এই মুহূর্তে তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, এটি ছিল জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের মতো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানো, এবং এজন্য তাদের সাধুবাদ জানিয়েছেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বলেন, “প্রথমবার শহীদ মিনারে এসেছে, সেজন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। সবাই ভুল বুঝতে পারে। ভুল যদি তারা মুছে ফেলে নতুন করে আবার শুরু করতে চায়, তাহলে সে শুরু করার জন্য তাদের সাধুবাদ জানাই।”

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, নতুন সরকারের অধীনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা তার জন্য বিশেষ আনন্দের। তিনি বলেন, “এত বছর পর আমরা নির্বাচিত সরকারের অধীনে আজকে আমাদের শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি। এটি অত্যন্ত আনন্দের যে, আমি প্রথমে মন্ত্রিপরিষদের অংশ হয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি, ফুল দিয়েছি। এরপর আমাদের দলের অংশ হয়ে শ্রদ্ধা জানানোও সম্ভব হয়েছে। এটি একটি অত্যন্ত আনন্দের বিষয়।”

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, এর আগে তিনি প্রতি বছর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, কিন্তু এবার আনন্দের মাত্রা অনেক বেশি। কারণ এবার শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা সম্ভব হয়েছে একটি গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে। তিনি মনে করান, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা শুধু রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, বরং দেশের ইতিহাস ও জনগণের অনুভূতিকে সম্মান জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

নিজ নির্বাচনী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ববি হাজ্জাজ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “আমার এলাকায় ঢাকা-১৩, বিশেষত মোহাম্মদপুর, যেখানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কিছু বদনাম রয়েছে, সেই বদনামগুলো খুব তাড়াতাড়ি আমরা মুছে ফেলব। স্থানীয় জনগণ যাতে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে জীবন যাপন করতে পারে, তার জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

প্রতিমন্ত্রী শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানানোর পর বলেন, শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন বিভাজন দূর করার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনও ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদদের স্মরণ করবে এবং দেশের জন্য অবদান রাখবে। তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি শুধুমাত্র ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা পালন করছেন না, বরং সমাজে শান্তি ও সংহতির প্রতীক হিসেবে এই শ্রদ্ধা প্রদর্শনকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই প্রথম উদ্যোগ রাজনৈতিক সহমর্মিতা ও দেশের ইতিহাসকে সম্মান জানানোর একটি শক্তিশালী বার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমান সরকার নাগরিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন দলকে সম্মিলিতভাবে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ দিচ্ছে।

শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসা শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও এই ঘটনা বিশেষভাবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা দেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাস ও প্রজন্মের কাছে তা স্মরণ করানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

এ ঘটনায় দেখা যায়, রাজনৈতিক পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সকলেই একত্রিত হয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য এগিয়ে আসতে পারে। ববি হাজ্জাজের এই বক্তব্য এবং প্রথমবারের মতো জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ সামাজিক সহমর্মিতা ও রাজনৈতিক সংহতির প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এই উপলক্ষে বলেন, দেশের নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, তার নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রশাসন যথাসম্ভব কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত