প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম তেজগাঁও অফিস কার্যক্রম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম তেজগাঁও অফিস কার্যক্রম

প্রকাশ:  ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সরকারি ছুটি থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তার নিজ উদ্যোগে এই দিন কার্যালয়ে অফিস করার সিদ্ধান্ত নেন।

সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তাকে স্বাগত জানান। কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে একটি আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কুশলাদি বিনিময় করেন। অনেককে নাম ধরে ডেকে পাশে টানেন, যা কর্মচারীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আবেগের সৃষ্টি করে। উপস্থিত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দেশের প্রধানমন্ত্রীর এত কাছ থেকে সাক্ষাৎ পেয়ে আবেগাপ্লুত হন।

দাফতরিক কার্যক্রম শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও কার্যালয় চত্বরে একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম (অব.) সহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই প্রথম দাফতরিক কার্যক্রম কেবল এক প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, এটি নতুন সরকারের উজ্জ্বল ও সক্রিয় নেতৃত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখা যাচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের আন্তরিকতা ও সাদৃশ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কৃতিকে উজ্জীবিত করছেন। বিশেষত, পুরোনো কর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় এবং তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে।

এই দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি অফিসে আগত কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক নীতিনির্ধারক বৈঠকও করেন। বৈঠকে দেশের প্রশাসনিক, নিরাপত্তা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য প্রাথমিক নির্দেশনা দেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপের সময় তিনি তাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, জবাবদিহিতা এবং জনসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জোর দেন।

প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে দাফতরিক কার্যক্রম শুরু করার মধ্য দিয়ে দেশের নাগরিকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের সেতুবন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি অফিসে উপস্থিত হয়ে প্রশাসনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করছেন, যা দেশের শাসনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং গতি যোগাবে।

বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব উদ্যোগে অফিসে উপস্থিত হওয়া প্রশাসনের মধ্যে উদ্যম এবং মনোবল বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে। এটি সরকারের নতুন কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যকর প্রশাসন ও পরিকল্পিত নীতি প্রণয়নে সহায়ক হবে। পাশাপাশি, এটি প্রধানমন্ত্রীর সাদৃশ্যপূর্ণ ও জনগণের প্রতি মনোযোগী নেতৃত্বের পরিচায়ক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই কার্যক্রমকে সরকারের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ এবং কর্মচারীদের মানসিক উদ্দীপনা বৃদ্ধি দেশের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করবে।

এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতি ও কার্যক্রম কর্মকর্তাদের মধ্যে এক প্রেরণা ও উদ্দীপনার সঞ্চার করেছে। দেশের শীর্ষ প্রশাসনিক পর্যায়ে তার এই সাদৃশ্যপূর্ণ এবং মনোযোগী নেতৃত্ব সরকারি কার্যক্রমকে নতুন মাত্রা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত