প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রমজান মাসে প্রায় ১৩ ঘণ্টা রোজা রাখা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য এক বিশেষ চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ সময় ক্ষুধা ও তৃষ্ণার সঙ্গে সামলাতে গিয়ে শরীরের সুস্থতা বজায় রাখা সহজ নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোজার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্যকর সাহ্রি গ্রহণ করা আবশ্যক। সাহ্রি যেন হাই প্রোটিন, হাই ফাইবার এবং লো-গ্লাইসিমিক সূচকের কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ হয়। প্রোটিন ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, ফাইবার পানি ধরে রাখে এবং লো-গ্লাইসিমিক কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে রক্তে শোষিত হয়, যা দিনের বেলা রক্তে শর্করার হঠাৎ পতন প্রতিরোধ করে।
অনেকে মনে করেন, সাহ্রিতে পেট পূর্ণ করে খেলে সারা দিনের ক্ষুধা কমবে। তবে এটি ভুল ধারণা। অতিরিক্ত খেলে অ্যাসিডিটি, পেটফোলা এবং অন্যান্য হজম সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, সাহ্রিতে স্বাভাবিক পরিমাণে খাবার গ্রহণ করতে হবে। এতে থাকবে পরিমিত ভাত বা রুটি, মাছ বা মাংস, ডাল, সবজি ও সালাদ। প্রয়োজনে এক কাপ দুধ বা দই অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। দুধ-ভাতের মতো সংমিশ্রণও উপকারী।
শহরে ব্যবহৃত আতপ চালের ভাতের বদলে সেদ্ধ মোটা চাল বা লাল চাল ব্যবহার করা উচিত। এগুলোর গ্লাইসিমিক সূচক কম এবং দীর্ঘ সময় শক্তি সরবরাহ করে। চাইলে ভাতের পরিবর্তে সমপরিমাণ লাল আটার রুটি বা ওটসও গ্রহণ করা যেতে পারে। অতিরিক্ত খাওয়া এবং পানিশূন্যতা এড়াতে, সাহ্রি খাবারের পর যথেষ্ট পানি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
শাকসবজি গ্রহণ সারা দিনের জন্য পেট ভরা রাখে এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সাহ্রি শেষ করা উচিত শেষ ১০–১৫ মিনিট আগে। মধ্যরাতের দিকে খাওয়া বা বিরিয়ানি, পোলাও, খিচুড়ির মতো খাবার ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়, কারণ এগুলো অতিরিক্ত পানি চাহিদা তৈরি করে।
প্রোটিন হিসেবে মাছের ব্যবহার মাংসের চেয়ে বেশি উপকারী, কারণ মাংস হজমে কোষে অতিরিক্ত পানির প্রয়োজন হয়। ঘন ডালও ভালো বিকল্প, যা প্রোটিন এবং তরল উভয়ই সরবরাহ করে। অনেকে সাহ্রিতে কিছু না খেয়ে রোজা রাখেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। খালি পেটে রোজা রাখা হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ায় এবং চোখ ও ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। চাইলে একটি খোসাসহ ফল খাওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, স্বাস্থ্যকর সাহ্রি ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কেবল রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণেই সাহায্য করে না, বরং সারা দিনের শক্তি, মনোবল এবং শরীরের সতেজতা বজায় রাখতেও সহায়ক। সঠিক খাবারের নির্বাচন, প্রোটিন, ফাইবার এবং লো-গ্লাইসিমিক কার্বোহাইড্রেটের সঠিক ভারসাম্য রোজা পালনকে সহজ ও নিরাপদ করে তোলে।
ডায়াবেটিক রোগীদের উচিত সাহ্রি পরিকল্পনায় খাদ্যতালিকা সচেতনভাবে তৈরি করা, প্রচুর পানি গ্রহণ করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। এতে রোজার সময় শরীর সুস্থ থাকবে এবং দিনের বেলা অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। স্বাস্থ্যকর সাহ্রি ডায়াবেটিক রোগীদের রোজার আনন্দ ও সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করার মূল চাবিকাঠি।