জাম্পার চোখে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশ চার উইকেট

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
জাম্পার চোখে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে হতাশ চার উইকেট

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

অস্ট্রেলিয়ার লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম দুর্দান্ত বোলিং পারফরম্যান্স উপভোগের পরিবর্তে হতাশার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। ওমানে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ওমানের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার জয় যেমন বড় ছিল—৯ উইকেটে—তবু জাম্পা নিজেকে উচ্ছ্বসিত মনে করেননি। চার ওভারে ২১ রান খরচ করে চারটি উইকেট নেওয়া, যা যেকোনো বোলারের জন্য স্বপ্নের মতো ফলাফল, তাতেও তার অনুভূতি ছিল ঠিক উল্টো। তিনি বলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে খারাপ অনুভূতির চার উইকেট’।

ম্যাচ শেষে জাম্পা জানান, “সত্যি বলতে ভেতরটা ফাঁপা লাগছে। উইকেট পাওয়া অবশ্যই ভালো, কিন্তু এটা সম্ভবত আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ চার উইকেট। আজ শূন্য উইকেট পেলেও হয়তো একই রকম হত। এখন এখানে বসে জানি, কালই দেশে ফিরছি, এটা আমি কল্পনাও করিনি।”

অস্ট্রেলিয়ার দলটি জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ হারের পর গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। অধিনায়ক মিচেল মার্শ তখন দলের পরিস্থিতি ‘বিধ্বস্ত’ এবং ‘চূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। চার দিন পর ওমানের বিপক্ষে বড় জয় এসেছে, তবু জাম্পার চোখে সেটি কেবল সান্ত্বনার মতো। তিনি বলেন, “এই ধরনের ম্যাচে আমাদের আধিপত্য দেখানো উচিত, আজ দেখিয়েছি, এটিই ইতিবাচক দিক। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ফলাফল হতাশাজনক।”

অস্ট্রেলিয়া ২০২১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। তবে এরপর তিনটি আসরই দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। ২০২২ সালে স্বাগতিক হিসেবে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়, ২০২৪ সালে সুপার এইটে তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হেরে বিদায় নেয়। এবারও একই পরিণতি। জাম্পা বলেন, “আমরা সাধারণত টুর্নামেন্ট দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২০২১-এর পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপ শেষ করেছি হতাশ হয়ে। ২০২২ ও ২০২৪; বিশেষ করে ওই দুই আসরে আমাদের দল ফাইনালের খুব কাছাকাছি ছিল। শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা কেউ জানে না। কিন্তু ফলাফলগুলো সত্যিই হতাশার।”

তিনি আরও যোগ করেন, “গত তিন দিন ধরে আমি ভাবছি, শেষ তিনটি বিশ্বকাপ কীভাবে গেল। মাঝের সময়ে আমরা বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে দুই-তিন নম্বরে ছিলাম। সাধারণত ভারতের পরেই। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতকে আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জ দিই। কখনো তারা জেতে, কখনো আমরা। আমরা ভালো দল। কিন্তু এমন ফলাফল বোঝা কঠিন।”

জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ভক্তদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, অ্যাশেজের মতো মর্যাদাপূর্ণ টেস্ট সিরিজের তুলনায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কি দল কম গুরুত্ব দেয়? বিশেষ করে ২০২৫–২৬ মৌসুমে অ্যাশেজ ৪–১ ব্যবধানে ধরে রাখার পর এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। তবে জাম্পা বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন। তার ভাষায়, “কোচ ও সাপোর্ট স্টাফরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমরা কীভাবে খেলব, কে কোন ভূমিকায় থাকবে, প্রস্তুতি কেমন হবে; এসব নিয়ে যত সময় দেন, টেস্ট ক্রিকেটেও হয়তো ততটাই দেন। হয়তো আরও বেশি। কারণ টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি।”

অস্ট্রেলিয়ার দর্শকদের প্রসঙ্গও টেনে জাম্পা বলেন, “আমাদের সাদা বলের অনেক ম্যাচই অস্ট্রেলিয়ার সময়ের বাইরে হয়। দেশে গ্রীষ্মে আমরা তিন থেকে ছয়টি ম্যাচ খেলি। ফলে দর্শকেরা প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াটি কাছ থেকে দেখতে পারেন না।”

ব্যক্তিগতভাবে সফল হলেও দলের ব্যর্থতায় আনন্দহীন জাম্পা। তার চার উইকেটের বোলিং নিখুঁত ছিল—লাইন-লেন্থে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, গতি পরিবর্তন কৌশল—but বিদায়ের প্রাক্কালে সেটি কেবল একটি বিষণ্ন পরিসংখ্যান হিসেবে রয়ে গেছে।

জাম্পার বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ও দলের সামগ্রিক ফলাফলের প্রভাবের কারণে নিজেকে সাফল্যের মধ্যে আনন্দিত মনে করতে পারেন না। এটি ক্রিকেটীয় প্রতিযোগিতা ও দলের প্রত্যাশার মানদণ্ড কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা স্পষ্ট করে। অস্ট্রেলিয়ার তরুণ দলটি ভবিষ্যতে নতুন বিশ্বকাপ আসরে নিজেদের ছাপ রাখার আশা রাখে, তবে জাম্পার মত অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা ও সতর্কতামূলক মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত