রাশিয়ার বৈকাল হ্রদে পর্যটক বাস ডুবে ৭ নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
রাশিয়ার বৈকাল হ্রদে পর্যটক বাস ডুবে ৭ নিহত

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাশিয়ার সাইবেরিয়ার বিখ্যাত বৈকাল হ্রদে গতকাল শুক্রবার একটি পর্যটক বহনকারী বাস বরফ ভেঙে পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় সাতজন পর্যটক নিহত হয়েছেন। নিহতদের প্রাথমিকভাবে চীনা নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ দুর্ঘটনা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রদায়ের জন্য এক গভীর শোকের সংবাদ হিসেবে এসেছে।

রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক শাখা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি প্রায় তিন মিটার চওড়া বরফের ফাটলে পড়ে ১৮ মিটার গভীরে ডুবে যায়। উদ্ধারকাজে বিশেষভাবে পানির নিচে ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়, যার মাধ্যমে সাতজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন পর্যটক দুর্ঘটনার আগে বাস থেকে বের হতে সক্ষম হয়েছেন, তিনি বর্তমানে নিরাপদ আছেন।

ইরকুত্স্ক অঞ্চলের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানান, নিহতদের জাতীয়তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে দুর্ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত চীনা নাগরিকদের বিষয়টি চীনের কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে বৈকাল হ্রদে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন এখনো ব্যাপক এবং স্থানীয় প্রশাসনকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিশ্বের গভীরতম হ্রদ বৈকাল শীতকালে প্রায় পুরোপুরি বরফে ঢেকে যায়। বরফের নিচে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের ধাক্কার শব্দ এবং স্ফটিকের মতো দৃষ্টিনন্দন বরফের স্তম্ভ পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এ কারণে প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক হ্রদটির ওপর ভ্রমণে আসেন। তবে বৈকাল হ্রদের ওপর সড়কচলাচলের জন্য নির্দিষ্ট পথ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং অন্যত্র গাড়ি চালানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। গভর্নর কোবজেভ জানিয়েছেন, ওই সড়কটি দুর্ঘটনার দিন ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ছিল না। এ ঘটনায় রাশিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বরফের ভাঙা অংশে বাসটি নিমেষে পানিতে তলিয়ে যায়। ঘন বরফের নিচে বাসটি আটকা পড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকাজের জন্য বোট, ড্রোন ও পানির নিচের ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে তাতেও সবার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ হলো অনুমোদনবিহীন রুটে গাড়ি চলানো। কর্তৃপক্ষ আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা পুনরায় না ঘটে। তারা সকল ভ্রমণ সংস্থা ও পর্যটকদের হ্রদের নিরাপদ ব্যবহারের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈকাল হ্রদ শীতকালে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। বরফের উপর অতিরিক্ত ওজন বা অনুমোদনবিহীন চলাচল বিপদ ডেকে আনে। নিরাপত্তা বিধি মেনে চললেও হঠাৎ ফাটলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। তাই পর্যটকরা বরফে ভ্রমণের আগে স্থানীয় নির্দেশনা এবং নিরাপত্তা বিধি কড়াভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

এই দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের সঞ্চার করেছে। চীনের পর্যটক মহল এবং তাদের পরিবার এ ঘটনায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। রাশিয়ার স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক কনস্যুলেট সহায়তার মাধ্যমে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এছাড়া আহত এক পর্যটককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

সাইবেরিয়ার বৈকাল হ্রদে পর্যটন ক্রমবর্ধমান। হ্রদের ভেজা বরফের সৌন্দর্য দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে, তবে এই দুর্ঘটনা সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অনুমোদনবিহীন রুটে যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হবে এবং পর্যটক নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে চীনা পর্যটক এবং পর্যটন সংস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পর্যটক গাইড এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তৎপরতার মাধ্যমে এই ধরনের দুর্ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে বৈকাল হ্রদের বরফে পর্যটক চলাচলে আরও কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত