প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী তার নতুন দফতরে প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ডাকটিকিট অবমুক্ত করেন। এটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়।
সকালে ১০টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীর জন্য উষ্ণ অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। দীর্ঘ সময় পর প্রধানমন্ত্রী যখন তার কর্মস্থলে ফিরেছেন, তখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আবেগ ও উদ্দীপনায় ভরে ওঠেন। এদিন বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যাবর্তন কেবল একটি প্রশাসনিক অনুষ্ঠান নয়, বরং তেজগাঁও কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রফুল্লতা ও উৎসাহের এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কর্মরত বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কুশল বিনিময় করেন। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক আলাপচারিতা উপস্থিত সকলের আবেগকে ছুঁয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রধানমন্ত্রী তার পুরোনো সহকর্মীদের নাম ধরে ডেকে তাদের খোঁজখবর নেন এবং দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। এ ধরনের মানবিক আচরণ উপস্থিত অনেককেই আবেগাপ্লুত করে তোলে।
দাপ্তরিক কার্যক্রমের সূচনার আগে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও কার্যালয় চত্বরে একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন। বৃক্ষরোপণের পর প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করা হয়, যেখানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা।
স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচনের পর প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় করেন এবং দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি এসময় দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই দাপ্তরিক প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়, বরং নতুন সরকারের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব প্রদানের একটি শক্তিশালী বার্তা।
এই স্মারক ডাকটিকিটটি কেবল একটি পদচিহ্ন নয়, এটি বাংলাদেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জনগণের গভীর সংযোগের প্রতীক। বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করছেন, প্রধানমন্ত্রী যখন সাধারণ মানুষের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্যতা প্রদর্শন করেন, তখন এটি সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বিশ্বাস ও সমন্বয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই দপ্তরভিত্তিক কর্মকাণ্ড দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন উদ্যম যোগ করেছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নতুন প্রশাসনিক পরিবেশে দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এক নতুন অধ্যায় রচনা করবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই সামাজিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই ধরনের মানবিক নেতৃত্বকে দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
স্মারক ডাকটিকিটের উদ্বোধন শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জনগণের গভীর আবেগের সংযোগ স্থাপন করেছে। এটি দেশের প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সম্পর্কের একটি সুদৃঢ় সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করবে।