প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
লক্ষ্মীপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্র ও দলের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এক গভীর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “মব মানে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করা। বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে গেলে নতুন বাংলাদেশ গড়ায় বাধা হতে পারে। তাই যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তারা দেশের শত্রু হিসেবে গণ্য হবে।”
এ্যানি আরও বলেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে দেশকে একত্রিতভাবে এগিয়ে নিতে হলে মব কালচার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং সকলে দায়িত্বশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে চলতে হবে। তার ভাষায়, “আজকের দিনে আমরা অঙ্গীকার করছি আগামী দিনে যেন দেশের গণতন্ত্র অটুট থাকে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন থাকে। এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।”
মন্ত্রী এসময় জাতির বিভিন্ন স্তরের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে একটি উদাত্ত আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দল-মত নির্বিশেষে সকলের সঙ্গে মিলিত হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে দেশের উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়। “নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে একত্রে কাজ করতে হবে, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন,” তিনি যোগ করেন।
এ্যানি উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং সরকারের কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। “যদি কেউ এর বাহিরে গিয়ে অশৃঙ্খল কিছু করার চেষ্টা করে, তার দায় তার নিজের ওপর বর্তাবে। আমরা চাই না যে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন হুমকির মুখে পড়ুক,” তিনি বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাহাব উদ্দিন সাবু, বাফুফের সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপী, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাঈন উদ্দীন চৌধুরী রিয়াজ এবং পৌর বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম লিটনসহ আরও অনেকে। উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এ্যানির বক্তব্যে একটি স্পষ্ট বার্তা লক্ষ্য করা যায়—নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, “আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি হবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, যেখানে কেউ অন্যের অধিকার হরণ বা বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে না। যারা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
মন্ত্রী এদিন উপস্থিত সবাইকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্মের কাছে আমরা একটি উদাহরণ স্থাপন করতে চাই, যেখানে দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধি সবাইকে নিয়ে এগোবে। সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হবে এই অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখা এবং যে কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা থেকে দূরে থাকা।”
এ্যানির এই উক্তি দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের শান্তি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। মন্ত্রী এদিন যে বার্তা দিয়েছেন, তা কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং দেশের নাগরিক এবং নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করার আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উপস্থিত বক্তাদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য নতুন প্রজন্মের জন্য দিশানির্দেশক। তারা মনে করেন, শান্তি ও স্থিতিশীলতা ছাড়া দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। এ্যানির বার্তায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেকোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার চেষ্টা প্রতিহত করতে হবে এবং যারা তা করবে, তাদেরকে দেশের শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা এ্যানির বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তারা মনে করেন, এটি দেশের নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এটি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ন্যায়ের প্রতি অঙ্গীকার অটুট রাখতে হলে সকলকে আইন এবং নীতি মেনে চলতে হবে।
মন্ত্রী এ্যানির এই আহ্বান দেশের নাগরিক সমাজ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতাদের জন্য দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে। এটি একটি বার্তা যে, নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একত্রে কাজ করতে হবে, দায়িত্বশীল হতে হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও শান্তি রক্ষা করতে হবে।