নেত্রকোনায় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা ভিডিও ভাইরাল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
নেত্রকোনায় শহীদ মিনারে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন। রাত ১২টার পর থেকে উপজেলা সদরের জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বিশকাকুনি ইউনিয়ন ও নারান্দিয়া ইউনিয়নের শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এই সময়ের কার্যক্রমের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়ে গেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, একুশের প্রথম প্রহরে জগৎমণি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন দলটির নেতাকর্মীরা। সেখানে উপস্থিতরা ‘ভয় করি না মরণে’, ‘নেতা মোদের শেখ মুজিব’, ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ ইত্যাদি স্লোগান উচ্চারণ করেন। ভিডিওটি ফেসবুকের মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে, যেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুনতাসির মাসুদ খান ফাহিম ও আরশাদ শেখ নামের দুটি আইডি ভিডিওটি পোস্ট করেছেন।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই আয়োজন সম্পূর্ণরূপে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। পূর্বধলা সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক আহ্বায়ক এবং বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুর রহমান ওরফে ঝন্টু বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বর্তমানে আমেরিকাপ্রবাসী আমানুর রশিদ খানের নির্দেশনায় এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সকল শহীদ ও ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পৃথকভাবে আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে, নারান্দিয়া ইউনিয়ন ও বিশকাকুনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শহীদ মিনারে পৃথকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে। এই সমস্ত কর্মকাণ্ডের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, ‘পূর্বধলা উপজেলায় নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনের নেতা-কর্মী ভাষা শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়েছে—এ রকম কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই।’ তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিতভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার তদারকি করছে এবং শহীদ দিবসের কার্যক্রম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শুধু ঐতিহাসিক স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর অনন্য সুযোগ নয়, বরং তা দেশের স্বাধীনতা, ভাষা আন্দোলন এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে মনে করিয়ে দেয়। একুশের প্রথম প্রহরে এই শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা শহীদদের ত্যাগ ও বীরত্বের বার্তা পৌঁছে দেয়ার প্রয়াস লক্ষ্য করা গেছে।

অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উৎসাহ, দেশপ্রেম এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার ছাপ পরিস্কারভাবে লক্ষ্য করা গেছে। তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রাতের এই আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

এছাড়া স্থানীয় নেতারা মনে করান, শহীদ দিবসের মতো জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দিবসে সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এটি দেশপ্রেমের পরিচায়ক এবং সামাজিক শান্তি ও সংহতির প্রতীক হিসেবে গণ্য হয়। শহীদ মিনারে ফুল অর্পণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদন এই মূল্যবোধকে দৃঢ় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এমন সময়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি স্থানীয় জনগণ এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। অনেকেই ভিডিওটি দেখে শ্রদ্ধা প্রদর্শনের এই প্রচেষ্টা প্রশংসা করেছেন এবং বলেন, এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও ভাষা শহীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের এই উদ্যোগ দেশের গণতন্ত্র, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস এবং শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশপ্রেম ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় নেতারা এই আয়োজনকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখার জন্য বিশেষ তদারকি করেছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত