ভাষা আন্দোলনের চেতনাতেই গণতন্ত্রের অঙ্গীকার: ইশরাক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
ভাষা আন্দোলনের চেতনাতেই গণতন্ত্রের অঙ্গীকার: ইশরাক

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গভীর আবেগ, আত্মত্যাগ ও গৌরবের প্রতীক। এই দিনটি শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার স্মারক নয়, বরং স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সমঅধিকারের সংগ্রামের এক অবিনাশী অনুপ্রেরণা। সেই চেতনাকে ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল এবং সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। শহীদ মিনারের বেদি ফুলে ফুলে ভরে ওঠে, আর সেখানে দাঁড়িয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে নতুন করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

ইশরাক হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলন শুধু ভাষার জন্য সংগ্রাম ছিল না; এটি ছিল আত্মপরিচয়, অধিকার ও মর্যাদার জন্য বাঙালির প্রথম সংগঠিত প্রতিরোধ। তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা নির্বাচনের আগে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে। আমরা সবসময় একটি গণতান্ত্রিক, মুক্ত ও স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়তে চেয়েছি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের লড়াই সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্যই পরিচালিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা থেকেই মুক্তিযুদ্ধের বীজ রোপিত হয়েছিল এবং সেই চেতনার মূল ভিত্তি ছিল সমতা, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা। তিনি মনে করেন, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণের মতামতের প্রতিফলন এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিগত সরকারের কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনগণের ভোটাধিকারকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “যারা নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বলে দাবি করত, তারাই প্রকৃতপক্ষে সেই চেতনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেশকে গুম, হত্যা ও লুটপাটের রাজনীতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, যা জাতির জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়।”

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ আবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে এসেছে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন সেই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ভিন্ন হতে পারে, তবে সেই প্রত্যাশাগুলো পূরণ করার জন্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরে ইশরাক হোসেন বলেন, এই আন্দোলন ছিল একটি সার্বজনীন সংগ্রাম, যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সবাই অংশগ্রহণ করেছিল। তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলনের মূল শিক্ষা হলো—এই দেশের প্রতিটি মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার পাবে। পাহাড়ি হোক বা সমতলের মানুষ, সবাই সমান নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। আমরা সেই আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।”

শহীদ মিনারে উপস্থিত বিএনপির মহানগর নেতাকর্মীরাও ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি এবং সেই চেতনা থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম। তারা বিশ্বাস করেন, ভাষা আন্দোলনের আদর্শ অনুসরণ করেই একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

শহীদ মিনারের পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও গম্ভীর। ভোর থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খালি পায়ে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ফুলের তোড়ায় ভরে ওঠা শহীদ মিনার যেন নতুন করে জাতির ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। সেখানে উপস্থিত অনেকেই বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু ভাষার জন্য নয়, বরং পুরো জাতির স্বাধীনতা ও মর্যাদার ভিত্তি স্থাপন করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভাষা আন্দোলন শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনার মূল ভিত্তি। এই আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতি তাদের অধিকার আদায়ের শক্তি ও সাহস অর্জন করেছিল, যা পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার রূপ নেয়।

ইশরাক হোসেন তাঁর বক্তব্যের শেষে বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে পারে না। তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই বর্তমান প্রজন্মের দায়িত্ব। তিনি সবাইকে ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

মহান শহীদ দিবসের এই আয়োজন শুধু অতীতকে স্মরণ করার একটি উপলক্ষ নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি অঙ্গীকার। ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আলোয় অনুপ্রাণিত হয়ে একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ই ছিল দিনটির মূল বার্তা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত