বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্সের কোচ হচ্ছেন জিদান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩ বার
বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্সের কোচ হচ্ছেন জিদান

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশটির ফুটবলপ্রেমীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাস্তব রূপ পেতে চলেছে বলে জোরালো গুঞ্জন উঠেছে। ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ শেষে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও আসেনি, তবুও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ফরাসি ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফ্রেঞ্চ ফুটবল ফেডারেশন এবং জিদানের মধ্যে ইতোমধ্যেই মৌখিক সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমান কোচ দিদিয়ের দেশম-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন জিদান। দেশমে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তার অধীনে ফ্রান্স বিশ্ব ফুটবলে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাই তার বিদায়ের পর দায়িত্ব নেওয়া যে কোনো কোচের জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে।

দিদিয়ের দেশমের অধীনে ফ্রান্সের সাফল্য সত্যিই ঈর্ষণীয়। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে ফ্রান্স দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও সেই ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে পরাজিত হতে হয়, তবুও ধারাবাহিকভাবে দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা ফ্রান্সের শক্তিমত্তারই প্রমাণ।

এই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় দেশমে ফ্রান্সের ইতিহাসে অন্যতম সফল কোচ হিসেবে বিবেচিত। তবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর নতুন নেতৃত্ব আনার চিন্তা থেকেই ফেডারেশন ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর সেই পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছেন জিনেদিন জিদান।

জিদান নামটি শুধু একজন কোচ বা সাবেক খেলোয়াড়ের পরিচয় নয়, এটি ফরাসি ফুটবলের এক আবেগ, এক ইতিহাস। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে তার অসাধারণ পারফরম্যান্স ফ্রান্সকে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ এনে দেয়। ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে তার করা দুটি হেড গোল এখনও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপেও তার নেতৃত্বে ফ্রান্স আবার ফাইনালে ওঠে। যদিও সেই ফাইনালে ইতালির কাছে টাইব্রেকারে পরাজিত হয়, তবুও জিদানের নেতৃত্ব, দক্ষতা এবং ব্যক্তিত্ব তাকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর কোচিং ক্যারিয়ারেও সমানভাবে সফল হন তিনি। স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ-এর কোচ হিসেবে তার অর্জন বিশ্ব ফুটবলকে বিস্মিত করেছে। দুই দফায় দলটির দায়িত্ব পালন করে তিনি মোট ১১টি বড় শিরোপা জিতেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো টানা তিনবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়, যা আধুনিক ফুটবলে বিরল এক কীর্তি।

তার অধীনে রিয়াল মাদ্রিদ শুধু শিরোপাই জেতেনি, দলটি খেলেছে আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ফুটবল। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্ক, ম্যাচ পরিকল্পনা এবং চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

অনেকদিন ধরেই জিদানের জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছার কথা শোনা যাচ্ছিল। বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া তার স্বপ্ন। কারণ এই দলটির সঙ্গেই তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য জড়িয়ে আছে।

একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, জাতীয় দলের কোচ হওয়া তার জন্য বিশেষ সম্মানের বিষয় হবে। সেই বক্তব্যের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে জল্পনা শুরু হয়, কবে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

বর্তমানে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্রান্সের ফুটবলপ্রেমীরা ইতোমধ্যেই এই সম্ভাবনায় উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, জিদানের নেতৃত্বে ফ্রান্স নতুন এক যুগে প্রবেশ করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিদানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার নেতৃত্বগুণ এবং খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা। তিনি খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারেন এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম।

ফ্রান্স জাতীয় দলে বর্তমানে কিলিয়ান এমবাপ্পে, অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এডুয়ার্দো কামাভিঙ্গার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছেন। এই তরুণদের নিয়ে একটি শক্তিশালী দল গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন জিদান।

তবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে তার সামনে একটি বড় অপেক্ষা রয়েছে। কারণ ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত দেশমেই দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন জিদান।

ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিবর্তন ফ্রান্সের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। কারণ জিদান নিজেই একজন বিশ্বকাপজয়ী এবং বিশ্বমানের কোচ। তার অভিজ্ঞতা দলকে আরও এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

ফ্রান্সের ফুটবল ইতিহাসে জিদানের অবদান এতটাই গভীর যে, তাকে আবার জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হতে দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন ভক্তরা। তারা বিশ্বাস করেন, জিদানের হাত ধরেই ফ্রান্স আবারও বিশ্ব ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়তে পারবে।

ফরাসি ফুটবলের এই সম্ভাব্য পরিবর্তন শুধু একটি কোচ পরিবর্তন নয়, এটি একটি আবেগের প্রত্যাবর্তন। একজন কিংবদন্তির আবার নিজের ঘরে ফিরে আসার গল্প।

এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর ফ্রান্স জাতীয় দলের ডাগআউটে দেখা যাবে সেই পরিচিত মুখ, যিনি একসময় মাঠে দাঁড়িয়ে পুরো বিশ্বকে মুগ্ধ করেছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত