প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউডের তারকা রণবীর সিং সম্প্রতি একটি গুরুতর হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন। মুম্বাই ফিল্মসিটি যেন এখন এক বাস্তব থ্রিলারের সেটে পরিণত হয়েছে। তবে এখানে কোনো ক্যামেরা নেই, নেই কোনো চিত্রনাট্য—এটি বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা সংকট। খবর অনুযায়ী, লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক অপরিচিত ব্যক্তি রণবীর সিংকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন। ওই ভয়েস নোটে দাবি করা হয়েছে, অভিনেতাকে নগদ ১০ কোটি রুপি দিতে হবে, অন্যথায় তার এবং তার কাছের মানুষের জন্য মারাত্মক ফল ভোগ করতে হবে।
ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুমকি মেসেজটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিবন্ধিত নম্বর থেকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো হয়েছে। ভয়েস নোটে শুধু রণবীরের নয়, তার ম্যানেজার এবং স্টাফদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য থাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এই হুমকির পর মুম্বাইতে রণবীর ও তার স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের আবাসনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, সিসিটিভি মনিটরিং করা হচ্ছে, এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
এই হুমকির ঘটনায় শুধু রণবীরই জড়িত নন, পরিচালক রোহিত শেট্টি এবং অভিনেতা আয়ুষ শর্মার নামও তালিকায় এসেছে। ফলে পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বড় তারকা থেকে পরিচালক, সবাই এখন নিরাপত্তার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ দিচ্ছেন।
উল্লেখযোগ্য হলো, এই পরিস্থিতির মধ্যেই রণবীর তার আসন্ন অ্যাকশন থ্রিলার ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এর প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ছবির পরিচালনা করছেন আদিত্য ধর এবং এতে আরও অভিনয় করছেন বলিউডের প্রখ্যাত অভিনেতারা যেমন সঞ্জয় দত্ত, মাধবন এবং অর্জুন রামপাল। সিনেমার শুটিং পরিচালনা করা হলেও, বাস্তব জীবনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন প্রধান অগ্রাধিকার।
বলিউড বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হুমকি শুধুমাত্র রণবীর সিং নয়, পুরো বিনোদন জগতে একটি সতর্কবার্তা। তারা বলছেন, “সেলিব্রিটি হওয়া মানেই কখনও কখনও বিপদও নিকটে থাকে। বিশেষত যদি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সংযোগ থাকার আশঙ্কা থাকে।” মুম্বাই পুলিশ ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে, পাশাপাশি হুমকির উৎস শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করেছে।
শুধু নিরাপত্তা নয়, এই ঘটনা বলিউডের হাই-প্রোফাইল অভিনেতাদের মানসিক চাপও বাড়িয়েছে। রণবীরের সঙ্গে কাজ করা কলাকুশলীরা সতর্ক হয়েছে এবং শুটিং সময় অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি প্রেরণ ও নগদ দাবি ইন্ডাস্ট্রিতে ক্রমবর্ধমান সমস্যা হয়ে উঠেছে।
বলিউডে এর আগেও একাধিক তারকা হত্যা বা হুমকির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু রণবীরের হুমকি এতটা সরাসরি ও নগদ দাবিসহ হওয়ায় এটি বিশেষভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবিলম্বে সক্রিয় হয়ে এই হুমকির উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যাতে আর কোনো ধরনের প্রমাণিত ক্ষতি না ঘটে।
এদিকে, ফ্যানরা সোশ্যাল মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, “প্রিয় তারকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। শিল্পী ও কলাকুশলীদের সুরক্ষার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তৎপরতা অত্যাবশ্যক।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হুমকিপূর্ণ ভয়েস নোটে রণবীরকে ‘লাইনে আসার’ বার্তা দেওয়া হয়েছে, যা বোঝায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ড এখনও কার্যকর। ফলে বলিউডে নতুন করে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বৃদ্ধি এবং সেলিব্রিটিদের সচেতন রাখা এখন অগ্রাধিকার।
সংক্ষেপে, রণবীর সিংয়ের হুমকির ঘটনা শুধু তার ব্যক্তিগত নয়, বরং বলিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি সতর্কবার্তা। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, আইন প্রয়োগকারীর সক্রিয় ভূমিকা এবং শিল্পীদের সতর্কতা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পী ও কলাকুশলীদের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশেষ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।