কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ বার
কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে শুক্রবার দুপুরে মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ঘটনার সময় শহরের বাইপাসের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে গ্যাস সিলিন্ডারবাহী একটি ট্রাক ও যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনায় অটোরিকশার চালকসহ চার যাত্রী এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও একজনের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় যাত্রীবাহী অটোরিকশাটি শহরের কবুরহাট থেকে বাইপাস হয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষ এতটা শক্তিশালী ছিল যে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার ফলে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদেরও মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হলেও পরবর্তীতে পুলিশ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক জয়দেব বলেন, “দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। আমরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করার চেষ্টা করছি।”

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। যারা এই ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার সাক্ষী ছিলেন, তারা জানান, সংঘর্ষের শব্দ এতটা ভয়ঙ্কর ছিল যে আশেপাশের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ছুটে আসেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা গভীর শোকাহত। স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং আহতদের তৎক্ষণাৎ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা ক্রমবর্ধমান হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাক ও সিএনজি অটোরিকশার মতো ছোট যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ অনেক সময় প্রাণঘাতী রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশকে আরও সচেতন হওয়ার এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয়রা দাবি করছেন, নগর এলাকায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সিগন্যাল স্থাপন করা হোক যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এছাড়া ট্রাক চালকদের প্রশিক্ষণ এবং যাত্রীবাহী অটোরিকশার মান নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই।

এই দুর্ঘটনা শুধু কুষ্টিয়াতেই নয়, দেশের অন্যান্য জায়গাতেও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে তীব্র করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিয়মিত ড্রাইভার ট্রেনিং, যানবাহনের মান নিয়ন্ত্রণ, এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিই একমাত্র সমাধান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা বলেন, এই দুর্ঘটনা শুধু পরিবারগুলোর জন্য নয়, পুরো কুষ্টিয়া শহরের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৃতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার দাবি উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে এবং মৃতদের পরিবারের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

অভিজ্ঞ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাকচাপায় এ ধরনের সংঘর্ষ প্রতিরোধে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, যাত্রীবাহী সিএনজি ও ট্রাকগুলোর প্রযুক্তিগত মান নিরীক্ষণ এবং ট্রাক চালকদের মানসিক ও শারীরিক সক্ষমতা যাচাই অত্যন্ত জরুরি।

সংক্ষেপে, কুষ্টিয়ার এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা যে, সড়ক নিরাপত্তা এবং ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। দ্রুত আইন প্রয়োগ, সচেতন ড্রাইভার এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার উন্নতি ছাড়া সড়কে প্রাণহানির মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত