শহীদ মিনারে বাধার মুখে রুমিন ফারহানা ফিরে গেলেন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
শহীদ মিনারে বাধার মুখে রুমিন ফারহানা ফিরে গেলেন

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শ্রদ্ধা জানাতে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বাধার মুখে ফুল অর্পণ না করেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ঘটনাটি শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঘটে, যা এলাকায় উত্তেজনা এবং পুলিশি সতর্কতা সৃষ্টি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রুমিন ফারহানা পুষ্পস্তবক নিয়ে শহীদ বেদীর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতাকর্মী ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি তীব্র হয়ে ওঠে। কিছু সময়ের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা দেখা দেয়, যার ফলে রুমিন ফারহানা পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে ব্যর্থ হন এবং কর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তায় শহীদ মিনার ত্যাগ করেন।

ঘটনার পর, তার কর্মী সমর্থকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং বাঁশে আগুন ধরিয়ে যান চলাচল ব্যাহত করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধ সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

রুমিন ফারহানা তার শাহবাজপুরের বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রথমে শহীদ মিনারে ফুল দিতে গিয়েছিলাম। তখন বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী পরিকল্পিতভাবে আমার ওপর আক্রমণের চেষ্টা করেছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে, তাদের উচিত মাঠ পর্যায়ে নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করা। যারা দলের পদ ব্যবহার করে হিংস্রতা করছে, তাদের বিরুদ্ধে উচিৎ পদক্ষেপ নেওয়া। না হলে দলের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ হবে।” তিনি জানান, এই ঘটনায় তার এক কর্মী আব্দুল আহাদ আহত হয়েছেন এবং তিনি মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রুমিন ফারহানা শহীদ মিনারে আসার সময় ৫০–৬০টি মোটরসাইকেল এবং ঢাকা থেকে সশস্ত্র ক্যাডার নিয়ে আসেন। তার কর্মী সমর্থকরা শহীদ বেদীতে সেলফি তুলতে গিয়ে ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হয়, যা বিএনপির নেতাকর্মীদের নয়, তার উচ্ছৃঙ্খল সমর্থকদের দোষ।

স্থানীয় প্রশাসনও ঘটনার সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ছিল। সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু বকর সরকার বলেন, “আমি এবং ওসিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম। দুপক্ষের মধ্যে স্লোগান পাল্টা স্লোগান হয়েছে এবং আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি।” ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি এবং স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুরো বিষয় যাচাই করবে এবং পরে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার প্রেক্ষাপটে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শহীদ দিবসের মতো গুরুত্বপুর্ণ সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের উত্তেজনা শুধু স্থানীয় শান্তি ও জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে না, বরং দলের ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলে।

শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও শহীদদের আত্মত্যাগের গল্প জানানো গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই ঘটনা প্রকাশ করে যে রাজনৈতিক সংঘাত ও পারস্পরিক উত্তেজনা এই গুরুত্বপূর্ণ দিনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শহীদ মিনারে রাজনৈতিক প্রভাব এড়িয়ে শ্রদ্ধা জানানো উচিত, যাতে এই জাতীয় প্রতীকী স্থান শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকে।

রুমিন ফারহানা ও তার কর্মী সমর্থকদের এই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষণীয় একটি বার্তা হলো, রাজনৈতিক নেতাদের উচিত শ্রদ্ধা ও মর্যাদার জায়গায় রাজনৈতিক সংঘাতকে পাশে রাখার চেষ্টা করা। একই সঙ্গে, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

এই ঘটনার মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়, শহীদ মিনার শুধু ইতিহাসের স্মারক নয়, এটি বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রও হয়ে দাঁড়াচ্ছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ হলো, জনগণ ও রাজনৈতিক নেতারা শান্তিপূর্ণভাবে ইতিহাসকে সম্মান জানায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত