থাইল্যান্ডের সাফারি পার্কে প্রাণঘাতী ভাইরাসে ৭২ বাঘের মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ বার
থাইল্যান্ডের সাফারি পার্কে প্রাণঘাতী ভাইরাসে ৭২ বাঘের মৃত্যু

প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের চিয়াং মাই প্রদেশের একটি ব্যক্তিগত সাফারি পার্কে প্রাণঘাতী ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে গত কয়েক সপ্তাহে অন্তত ৭২টি বাঘ মারা গেছে। দেশটির প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ কার্যালয় শুক্রবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। পার্কটির কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাঘগুলোর মৃত্যু মূলত মারাত্মক সংক্রামক ক্যানাইন ডিস্টেম্পার ভাইরাস ও শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিতকারী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে হয়েছে।

চিয়াং মাই প্রাদেশিক প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষায় ওই ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া শনাক্ত করা হয়েছে, যা বাঘের শ্বাসযন্ত্র ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলে। বাঘগুলো তখনই অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন, যখন সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল। প্রাণী অধিকার সংস্থা পেটা এশিয়া জানিয়েছে, এই বাঘগুলো বন্দিদশা ও ভয়ের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছিল, যা তাদের স্বাস্থ্যহানি ও মৃত্যুর একটি বড় কারণ। সংস্থা আরও উল্লেখ করেছে, পর্যটকদের সংখ্যা কমানো গেলে এই ধরনের পরিস্থিতি কমে যাবে।

সাফারি পার্কটির ওয়েবসাইটে বাঘগুলোর সঙ্গে পর্যটকদের সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। দর্শকরা বাঘকে স্পর্শ করতে, ছবি তুলতে এবং বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু এই ধরণের মানবিক হস্তক্ষেপ এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে বাঘদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক সোমচুয়ান রতনামুংক্লানন বলেন, “বিড়াল বা কুকুরের তুলনায় বাঘের রোগ শনাক্ত করা অনেক কঠিন। আমরা যখন বুঝতে পারলাম যে তারা অসুস্থ, তখন ইতিমধ্যেই অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, এই পার্কে বাঘগুলোতে নজরদারি ও পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না।

পার্কটির পরিচিত নাম ‘টাইগার কিংডম সাফারি পার্ক’, যা পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। এই পার্কে বাঘদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটানোর সুযোগ দেওয়া হয়, কিন্তু এতে প্রাণীদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে বন্যপ্রাণীর প্রতি অতিরিক্ত চাপ এবং বন্দিদশা তাদের স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যা সংক্রমণ এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

পেটা এশিয়ার কর্মকর্তা বলেছেন, “এই ধরনের বন্যপ্রাণী পার্কগুলোতে অতিরিক্ত পর্যটক এবং তাদের হস্তক্ষেপে প্রাণীগুলো প্রাকৃতিক আচরণ বজায় রাখতে পারেনা। তাই এমন মারাত্মক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে পর্যটকদের সংখ্যা কমানো এবং যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের নেতিবাচক ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”

বাঘগুলো কেবল থাইল্যান্ডের নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চিয়াং মাই প্রদেশের টাইগার কিংডম পার্কে এই মৃত্যুর ঘটনা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নতুন সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা এবং পর্যটন কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য না থাকলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সোমচুয়ান রতনামুংক্লানন উল্লেখ করেছেন, বাঘগুলোর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করতে তৎপরতা অব্যাহত আছে। তিনি বলেন, “আমরা বাঘের রোগ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি করতে কাজ করছি। ভবিষ্যতে এ ধরনের মৃত্যু এড়াতে আমরা আরও সতর্কতা গ্রহণ করব।”

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং প্রাণী অধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনার প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলছে, বন্দিদশায় রাখা বন্যপ্রাণী তাদের প্রাকৃতিক আচরণ অনুসরণ করতে পারে না, যার ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। পেটা এশিয়ার তরফে বলা হয়েছে, পর্যটন এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ভারসাম্য না থাকলে এই ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারে।

থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই প্রদেশের এই ঘটনা প্রমাণ করে, পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবন এবং স্বাস্থ্য রক্ষা করা কতটা জরুরি। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে পার্কগুলিতে পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রাকৃতিক আচরণ রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত