প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রাষ্ট্রীয় কূটনৈতিক যোগাযোগের ধারাবাহিকতায় রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। বেলা ১১টার দিকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সকালে ৯টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে উপস্থিত হন। সেখানে মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার তাকে স্বাগত জানান। এরপর শুরু হয় ধারাবাহিক দাপ্তরিক কার্যক্রম। প্রশাসনিক বিভিন্ন ফাইল পর্যালোচনা এবং নির্ধারিত বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি এগিয়ে যায়।
সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় হয়। শ্রমবাজার, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা প্রসঙ্গে উভয়পক্ষ ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রের ভাষ্য। সৌদি আরবে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর কল্যাণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধির বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিধি বাড়ানো এবং অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা যায়। সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ প্রবাহের গুরুত্বও উভয়পক্ষ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করেছে।
বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১২টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল-সংক্রান্ত একটি সভায় অংশ নেন। এই টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অবকাঠামো উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার যে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে, এই সভা তারই অংশ হিসেবে বিবেচিত।
সভার পর সাড়ে ১২টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি, বাজেট বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়ে সেখানে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যস্ত সময়সূচির মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং উন্নয়ন প্রকল্প তদারকিতে প্রধানমন্ত্রীর সক্রিয় উপস্থিতি প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দিনব্যাপী এসব বৈঠক দেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেই প্রত্যাশা করা হচ্ছে।