সাকিবের দেশে ফেরা প্রসঙ্গে যা বললেন ফারুক আহমেদ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
সাকিবের দেশে ফেরা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জাতীয় দলের প্রথিতযশা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান দেশের মাটিতে ফিরে আসতে পারেন, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ। গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে বোর্ড সবসময় সক্রিয় অবস্থানে আছে এবং দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

২০২৪ সালে ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন সাকিব। এরপর থেকে আর লাল-সবুজের জার্সিতে দেখা যায়নি তাকে। দেশেও আসতে পারেননি বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে। একবার দেশে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন সাকিব, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। সেসব পরিপ্রেক্ষিতে ক্রিকেট ভক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই তার দেশে ফেরার খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ফারুক আহমেদ বলেন, “সাকিবের বিষয়টা চলমান ছিল। আমি সভাপতি হওয়ার পর থেকেই চেষ্টা করছি। তার ফিটনেস এবং প্রফেশনালিজম নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা সবসময় চাই, সে বাংলাদেশের হয়ে খেলুক। সাকিব আমাদের জন্য একটা অ্যাসেট এবং ব্র্যান্ড। তার ফিটনেস দেখে তাকে সিলেক্ট করা আমাদের কাজ, তবে আইনি বিষয়গুলো সরকার দেখছে। আশা করছি খুব দ্রুতই একটি সুখবর পাওয়া যাবে।”

তিনি আরও জানান, বোর্ডের লক্ষ্য সবসময় দেশের ক্রিকেটকে শক্তিশালী করা এবং তার জন্য অভিজ্ঞ ও দক্ষ ক্রিকেটারদের জাতীয় দলে রাখা অপরিহার্য। সাকিব যেমন মাঠের ভিতরে দলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন, তেমনি বাইরে অনুপ্রেরণা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তার উপস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটি মানদণ্ড সৃষ্টি করে।

এদিকে সম্প্রতি বিসিবি কেন্দ্রীয় চুক্তিতে সর্বোচ্চ ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরিতে কোনো ক্রিকেটার রাখা হয়নি, যা নিয়ে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও ভক্তদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। ফারুক আহমেদ বলেন, “আগে তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও সাকিব সব ফরম্যাটে নিয়মিত খেলতেন। বর্তমানে এমন সব ক্রিকেটার নেই যিনি সব ফরম্যাটে নিয়মিত এবং অপরিহার্য। সে কারণেই অপারেশনস কমিটি ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি না রেখে ‘এ’ গ্রেড দিয়ে শুরু করেছে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাকিবের দেশে ফেরা এবং জাতীয় দলে পুনরায় খেলার সুযোগ, বিশেষ করে আইনি জটিলতার সমাধান হলে, এটি শুধু দলকে শক্তিশালী করবে না, বরং দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তিকেও উন্নত করবে। তরুণ ক্রিকেটাররা তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা থেকে অনুপ্রেরণা পেতে পারবেন।

সাকিব আল হাসান দেশের ক্রিকেটের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসেট হিসেবে বিবেচিত। তার ফিটনেস, অভিজ্ঞতা এবং খেলার মানদণ্ড জাতীয় দলে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিসিবি এই প্রেক্ষাপটে সব ধরনের আইনি ও প্রশাসনিক বাধা দূর করতে কাজ করছে। ফারুক আহমেদের আশাবাদ অনুযায়ী, খুব শিগগিরই দেশের ক্রিকেটভক্তরা সাকিবকে জাতীয় দলে খেলতে দেখতে পাবেন।

সাকিবের দেশে ফেরার বিষয়ে বিসিবির শীর্ষপর্যায়ের আশাবাদী মনোভাব দেশের ক্রিকেটের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় দলের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে আরও শক্তিশালী করতে।

এই প্রসঙ্গে বোর্ড জানিয়েছে, সাকিবের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ রাখা হচ্ছে, এবং তার দেশে ফেরার যাত্রা যেন সবচেয়ে নিরাপদ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জাতীয় দলের সাফল্যের জন্য সাকিবের অবদান অপরিসীম হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত