প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ভিত্তি করে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
বৈঠক শেষে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও বহুমাত্রিক। এই সম্পর্ককে ভবিষ্যতমুখী এবং জনকেন্দ্রিক সহযোগিতার মাধ্যমে আরও দৃঢ় করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের মধ্যে সংযোগ ও বিনিময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে মানুষে মানুষে সম্পর্ক বাড়ানো গেলে সামগ্রিক সম্পর্কও শক্তিশালী হয়।
প্রণয় ভার্মা বলেন, ইতিবাচক ও গঠনমূলক উপায়ে একসঙ্গে কাজ করাই এখন অগ্রাধিকার। পারস্পরিক সুবিধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ হিসেবে দেখতে চায় ভারত এবং সেই পথচলায় পাশে থাকতে আগ্রহী।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক সংযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক ট্রানজিট সুবিধা প্রসঙ্গে উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে।
ভিসা ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রণয় ভার্মা নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও দ্রুত সমাধানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, যোগাযোগ বৃদ্ধি দুই দেশের জনগণের স্বার্থে জরুরি। সে কারণে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার বিষয়ে তারা আশাবাদী। ব্যবসা, চিকিৎসা ও শিক্ষার উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারীদের সুবিধা নিশ্চিত করা সম্পর্ক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘ ইতিহাসে সমৃদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের ভূমিকা দুই দেশের সম্পর্কের এক অনন্য অধ্যায়। স্বাধীনতার পর থেকে বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যুৎ আমদানি, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং সীমান্ত হাটের মতো উদ্যোগ দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতা বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সংযোগ বৃদ্ধিতে ঢাকা ও দিল্লির সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের এই ইতিবাচক বার্তা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করতে পারে।
বৈঠক ছিল সৌজন্যমূলক, তবে আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল বিস্তৃত ও তাৎপর্যপূর্ণ। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের সফর ও যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগোলে দুই দেশের জনগণই উপকৃত হবে।
প্রণয় ভার্মার বক্তব্যে স্পষ্ট যে, ভারত সম্পর্ককে অতীতের ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে চায়। নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই বার্তা দুই দেশের জন্যই তাৎপর্যপূর্ণ। এখন নজর থাকবে আলোচনার প্রতিফলন বাস্তব উদ্যোগে কত দ্রুত দেখা যায়।