প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশ ক্রিকেটে এক আলোচিত সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম–কে সকল ধরনের ক্রিকেট–সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করেছে। বোর্ড এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে জাতীয় নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলম–এর আনীত অভিযোগ। জাহানারা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায় নানা মহল থেকে।
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিসিবি একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি জাহানারার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালায়। কয়েক দফা শুনানি ও নথিপত্র যাচাই শেষে তারা বোর্ডের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়।
৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বোর্ড জানায়, তদন্ত কমিটি চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগের মধ্যে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে অসদাচরণের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল এবং কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আলোকে অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিসিবির ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মঞ্জুরুল ইসলাম ভবিষ্যতে বোর্ডের আওতাধীন কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ক্রিকেট–সম্পর্কিত কার্যক্রমে যুক্ত থাকতে পারবেন না। নিষেধাজ্ঞাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
মঞ্জুরুল ইসলাম বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন এবং পরবর্তীতে প্রশাসনিক দায়িত্বে যুক্ত ছিলেন। নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বর্তমানে তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল–এ কর্মরত রয়েছেন। বোর্ড জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩০ জুনের পর থেকে বিসিবির কোনো দায়িত্বে ছিলেন না তিনি।
এই ঘটনায় নারী ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। ক্রীড়া অঙ্গনে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
জাহানারা আলম দীর্ঘদিন জাতীয় নারী দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশের নারী ক্রিকেটকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করতে তার ভূমিকা রয়েছে। এমন একজন ক্রিকেটারের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে শুরু থেকেই।
বিসিবির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে অনেকেই একটি বার্তা হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের আচরণ নিয়ে শূন্য সহনশীলতার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে তারা মনে করছেন, ক্রীড়াঙ্গনে পেশাদার আচরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই সিদ্ধান্তের পরবর্তী প্রভাব কী হবে। নারী ক্রিকেটের ভেতরে ও বাইরে আস্থা পুনর্গঠনে বিসিবি কী ধরনের উদ্যোগ নেয় সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করলো বলা যায়। অভিযোগ, তদন্ত এবং শাস্তির পুরো প্রক্রিয়া ক্রীড়াঙ্গনে জবাবদিহিতার সংস্কৃতি জোরদার করবে কিনা তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত পরিষ্কার, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ মিললে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হয়নি বোর্ড।