প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের বাজার আবারও চড়ামুখী। ইফতার টেবিলের অপরিহার্য উপকরণ লেবুর দাম এখন সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। কয়েক সপ্তাহ আগেও যা ছিল অর্ধেকের কাছাকাছি, এখন তা যেন বিলাসপণ্য।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রমজানে যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে সেগুলোর অধিকাংশের দাম এখনও স্বস্তিদায়ক নয়। লেবুর পাশাপাশি শুরুর দিকে শসা, বেগুন এবং কাঁচা মরিচের দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে দুই দিনের ব্যবধানে এসব সবজির দামে কিছুটা ছাড় মিলেছে। তবু সামগ্রিকভাবে বাজারে চাপ রয়ে গেছে।
ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, ইফতারের জন্য লেবু না কিনে উপায় নেই। একাধিক ক্রেতা জানান, আগে এক হালি লেবু কিনলে কয়েক দিন চলত। এখন একই পরিমাণ কিনতে দ্বিধা কাজ করছে। আয় অপরিবর্তিত, খরচ ক্রমাগত বাড়ছে। বাজারের এমন চিত্র মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
মানভেদে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। রমজানে ছোলার চাহিদা বাড়ে বরাবরই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি খরচ ও পাইকারি বাজারের দামের ওপর নির্ভর করে খুচরা মূল্য নির্ধারিত হয়। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদা বাড়লেই অজুহাতে দাম বাড়ে।
ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৯০ টাকায়। গত কয়েক সপ্তাহে মুরগির দাম ওঠানামা করলেও বর্তমানে তা উচ্চস্তরেই স্থির রয়েছে। মুরগি অনেক পরিবারের প্রধান প্রোটিন উৎস। ফলে এই দাম দীর্ঘস্থায়ী হলে ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়বে।
পেঁয়াজ ও চিনির দাম আগের মতোই আছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। যদিও দাম কমেনি, অন্তত নতুন করে বাড়েনি—এটাই এখন স্বস্তি হিসেবে দেখছেন অনেকে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এসব পণ্যে বড় উত্থান হওয়ার কথা নয়।
অন্যদিকে কুমিল্লার বাজারগুলোতে ভোজ্যতেলের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। বেশিরভাগ দোকানে মিলছে না পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল। ক্রেতারা দোকান থেকে দোকানে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত পণ্য পাচ্ছেন না। অনেকে বাধ্য হয়ে ছোট বোতল কিনছেন, যা তুলনামূলক বেশি দামে পড়ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রমজান এলে কিছু কোম্পানি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে। তেল নিতে গেলে অন্য পণ্যও কিনতে বাধ্য করা হয়। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা চাপে পড়েন। পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না থাকায় বাজারে অস্থিরতা বাড়ে।
তেল সংকটের প্রভাব পড়ছে ইফতার প্রস্তুতিতে। বেগুনি, পিয়াজু, সমুচা—এসব ভাজাপোড়ার জন্য তেল অপরিহার্য। সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। স্থানীয় প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নজরদারিতে রয়েছে। তবে বাজারে দৃশ্যমান পরিবর্তন এখনও আসেনি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রমজানকেন্দ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে। চাহিদা বাড়বে—এটি পূর্বানুমেয়। সেই অনুযায়ী আমদানি, মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থায় সমন্বয় জরুরি। নইলে প্রতি বছর একই চিত্র ফিরে আসে।
ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর দাবি, নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়াতে হবে। কৃত্রিম সংকট প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন। শুধু অভিযান নয়, সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা খুব বেশি নয়। ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া। রমজান আত্মসংযমের মাস। অথচ বাজারের অস্থিরতা সেই সংযমকে কঠিন করে তোলে। লেবুর মতো সাধারণ পণ্যের দাম যখন ১৪০ টাকায় পৌঁছে যায়, তখন প্রশ্ন ওঠে বাজার নিয়ন্ত্রণের কার্যকারিতা নিয়ে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় কি না। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমতে পারে। নইলে রমজানজুড়ে ভোক্তাদের চাপ বহাল থাকবে।