শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে সুপার এইট শুরু ইংল্যান্ডের

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৪ বার
শ্রীলঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিয়ে সুপার এইটে ইংল্যান্ড

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫১ রানে হারিয়ে অসাধারণ শুরু করেছে ইংল্যান্ড। পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১৪৭ রানের লক্ষ্য ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলারদের তোপে মাত্র ৯৫ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কানরা। এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ড সুপার এইটের শুরুতেই শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং নিজেদের লড়াই আরও জোরালো করেছে।

ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে শুরুটা মসৃণ হয়নি। টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দুই উইকেট হারিয়েছে তারা মাত্র ১৪ রানে। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ১৪ রান করার পর এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দলকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছে। যদিও দলের অন্য ব্যাটাররা বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হলেও ফিল সল্টের ব্যাট থেকে এসেছে সর্বোচ্চ ৬২ রান। উইল জ্যাকস ১৪ বলে ২১ রান যোগ করে দলের সংগ্রহ ১৪৬ রানে উন্নীত করেন। এতে ইংল্যান্ড তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যটি পূরণ করতে সক্ষম হয়।

শ্রীলঙ্কার পক্ষ থেকে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন দুনিথ ভেল্লালাগে, যিনি ৩ উইকেট নেন। এছাড়া দিলশান মাদুশাঙ্কা এবং মাহিশ থিকশানা দুটি করে উইকেট শিকার করেন। তবুও এই চেষ্টা যথেষ্ট হয়নি। ইংল্যান্ডের বোলাররা ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে লঙ্কান ব্যাটারদের খেলায় চাপ তৈরি করে।

শ্রীলঙ্কা ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে। দলীয় ২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে লঙ্কানরা মানসিক চাপের মুখে পড়ে। তাদের সংগ্রহ যখন ৫২, তখন দল ৬ উইকেট হারিয়ে খেলায় বিপর্যয়ে আসে। ইংল্যান্ডের বলের দাপটে দুই অংকের ঘরে পৌঁছাতেই বাকি ব্যাটারদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকা দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন, তবে তা কাজে লাগে না। মাত্র ৩ ওভার ২ বল বাকি থাকতে লঙ্কানরা ৯৫ রানে অলআউট হয়ে যায়।

ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ ছিল কার্যকর ও নির্ভুল। উইল জ্যাকস তিনটি উইকেট শিকার করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। জেড আর্চার, ডসন এবং আদিল রশিদ দুইটি করে উইকেট নেন। এভাবে পুরো দলীয় বোলিং ফাঁকা করে শ্রীলঙ্কাকে হতাশার মধ্যে ফেলেছে। ইংল্যান্ডের এই জয় সুপার এইট পর্বে তাদের মানসিকভাবে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

বিশেষ করে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং ও বোলিংয়ে সমন্বয় এবং দলের কৌশলগত খেলাধারার নিখুঁত পারফরম্যান্স ম্যাচটি মিস করার মতো নয়। প্রতিটি উইকেট ও রান সংগ্রহে লক্ষ্যভিত্তিক পরিকল্পনা দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের সমর্থকরা আনন্দে মেতে উঠেছেন, আর শ্রীলঙ্কার ভক্তরা হতাশা প্রকাশ করছেন।

এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের সুপার এইট অভিযাত্রা এখন বেশ ইতিবাচক। দলের আত্মবিশ্বাস এবং কৌশলগত প্রস্তুতি পরবর্তী ম্যাচের জন্য ভালো পূর্বাভাস দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার জন্য এখন সময় এসেছে নিজেদের কৌশল পুনর্বিন্যাসের, যাতে তারা পরবর্তী প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভালো লড়াই করতে পারে।

বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে প্রতিটি ম্যাচের ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ডের জয় শুধু তিন পয়েন্ট নয়, দলের মনোবল ও দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়েছে। সুপার এইট পর্বে এমন দারুণ শুরু দলটিকে পরবর্তী ম্যাচে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে সহায়তা করবে।

প্রশংসা কুড়িয়েছে ফিল সল্ট ও উইল জ্যাকসের ব্যাটিং, যাদের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে বোলিং ইউনিটের সঠিক পরিকল্পনা এবং খেলার নিয়ন্ত্রণ শ্রীলঙ্কাকে একেবারেই আটকে দিয়েছে।

পরবর্তী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে আরও সাবধান থাকতে হবে, কারণ সুপার এইট পর্বে প্রতিটি দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। শ্রীলঙ্কা অবশ্যই নিজেদের দুর্বলতা শনাক্ত করে খেলার কৌশল পরিবর্তন করবে। তবে এদিনের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডের জন্য এক স্পষ্ট বার্তা, যে তারা সুপার এইটে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকরা বলছেন, ইংল্যান্ডের জয় কেবল ফলাফলের দিকে নয়, দলের কৌশল ও আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ। বোলিং আক্রমণ, ব্যাটিং সামঞ্জস্য এবং দলের মানসিক প্রস্তুতি সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডকে সুপার এইটের জন্য শক্তিশালী দল হিসেবে দেখিয়েছে। শ্রীলঙ্কা অবশ্যই পরবর্তী ম্যাচে নিজেদের খেলার ধরন ও পরিকল্পনা পরিবর্তন করবে, নয়তো তাদের পথ আরও কঠিন হয়ে যাবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত