শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে বাধা ও হামলায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৬ বার
শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানাকে বাধা

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বাধা দেয়ার এবং তার কর্মীদের মারধরের ঘটনায় ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারকে। এছাড়া মামলায় এজহারনামীয় ৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সরাইল থানায় রুমিন ফারহানার কর্মী আহাদ এই মামলা দায়ের করেন। সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া জানান, মামলাটি ইতিমধ্যে নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে, যখন সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানা শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান। উপস্থিত স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনোয়ার হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে তাকে বাধা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রুমিন ফারহানার হাতে থাকা পুষ্পস্তবকটি ছিঁড়ে ফেলে উত্তেজিত নেতাকর্মীরা। ফলে রুমিন ফারহানা বাধ্য হয় তার কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে প্রহরায় এলাকা ত্যাগ করতে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাত সাড়ে ১২টার দিকে সরাইলের শাহবাজপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ রাখে রুমিন ফারহানার সমর্থকরা। তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে পথ অবরোধ করেন।

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দল তাকে বহিষ্কার করেছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধ চলে আসছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনা শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের ফল নয়, বরং রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও ক্ষমতার লড়াইয়ের প্রতিফলন। শহীদ মিনারের মতো সর্বজনীন ও সংবেদনশীল স্থানে এমন উত্তেজনা সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়ায় এবং সাধারণ মানুষও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

রুমিন ফারহানা মামলার পর সংবাদমাধ্যমে বলেন, “শ্রদ্ধা নিবেদন করতে গেলে বাধার মুখে পড়া এবং আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যথাযথভাবে সকলের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনী পরাজয় বা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এ ধরনের আচরণ করার অধিকার রাখে না।

সরাইল থানার ওসি জানান, তদন্তের জন্য একটি দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। মামলার সমস্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, “শহীদ মিনার একটি প্রতীকী স্থান। এখানে কোনো ধরনের সহিংসতা বা হস্তক্ষেপ সহ্য করা হবে না। তাই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয় এবং দলীয় মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে বিরোধ স্থানীয় নেতাদের মধ্যে উত্তেজনার মূল কারণ। এই ধরনের সংঘাত স্থানীয় রাজনীতির ধারাবাহিকতাকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সাধারণ মানুষ ও ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।

এ ঘটনার পর সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় নেতারা এ ধরনের ঘটনায় শীতল মাথা রাখতে এবং আইনের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করার জন্য সমর্থন জানিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিরোধ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এ ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ হয়ে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকও। তারা ঘটনার ভিডিও ধারণ করেছেন যা মামলার প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

উল্লেখ্য, শহীদ মিনার জাতীয় জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। এখানে কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে সহিংসতা ঘটানো ন্যায্য নয়। এটি সাধারণ মানুষের অধিকার এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি অসম্মান হিসেবেও ধরা হয়।

মামলার তদন্ত শেষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এটি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে শিক্ষণীয় হবে। আদালত ও প্রশাসনের কার্যকরী ভূমিকা ঘটনার ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত