প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সুপার এইটের তৃতীয় ম্যাচে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের তিনজন টপ-অর্ডারের ব্যাটার মাত্র ২০ রানেই ফিরে যাওয়ার পর হোঁচট খেতে হয় প্রোটিয়ারদের। তবু দারুণ কৌশল এবং একক ফর্মের মাধ্যমে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। ভারতের বোলারদের বিরুদ্ধে ৩৫ বলে ৬৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন তিনি, যা দলের সংগ্রহকে চ্যালেঞ্জিং করে তোলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার টপ-অর্ডার শুরুর দিকেই বড় ধাক্কা খায়। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে জসপ্রীত বুমরাহর সামনে কুইন্টন ডি কক ব্যাট করতে গিয়ে ব্যর্থ হন এবং ৭ বলে মাত্র ৬ রান করে বোল্ড হয়ে ফিরে যান। পরের ওভারে আর্শদীপ সিংকে আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়ে মার্করামও ৭ বলে ৪ রান করে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। দলের তৃতীয় উইকেটও শীঘ্রই আসে, রায়ান রিকেলটন ৭ বলে ৭ রান করে শিভম দুবের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন। মাত্র ২০ রানের মাথায় দল হারায় তিনটি উইকেট।
বিপদের সময়ে দলের হাল ধরেন ডেভিড মিলার। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। দুজনে মিলে যোগ করেন ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি। ১৩তম ওভারে শিভম দুবের বল থেকে অভিষেক শর্মার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ব্রেভিস। ফেরার আগে তিনি খেলেন ২৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস। এরপর মিলারও একটি বড় শট খেলতে গিয়ে তিলক ভার্মার হাতে ধরা পড়েন। তবে তার ৩৫ বলে ৬৩ রানের ইনিংস আফ্রিকার সংগ্রহকে যথেষ্ট শক্তিশালী করে তোলে।
শেষ দিকে ২৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ত্রিস্তান স্টাবস। তার ব্যাটিং দলের রানচাকার গতিকে অব্যাহত রাখে এবং আফ্রিকা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রানের সংগ্রহ করে। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ নেন তিনটি উইকেট, আর্শদীপ সিং দুটি উইকেট শিকার করেন। ভরুন চক্রবর্তী ও শিভম দুবে একটি করে উইকেট নেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহের বিশ্লেষণ দেখায়, টপ-অর্ডারের ক্ষতি সত্ত্বেও মিডল-অর্ডারের ব্যাটিং প্রমাণ করেছে যে দল প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টিকে থাকার জন্য সক্ষম। মিলারের উদ্দীপক ব্যাটিং এবং শেষের দিকে স্টাবসের ঝাঁপিয়ে পড়া ইনিংস দলের জন্য চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য গঠন করেছে, যা ভারতের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য চাপ সৃষ্টি করবে।
ভারতের ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের কৌশল ও শুরুটা কেমন হবে তা এখন দেখার বিষয়। আফ্রিকার ১৮৭ রানের সংগ্রহ সত্যিই একটি চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য। ভারতের ব্যাটসম্যানরা চাপ সামলাতে পারবে কি না, সেটাই ম্যাচের মূল উত্তেজনা হিসেবে ফুটে উঠবে। ম্যাচের ফলাফল নির্ভর করবে ভারতের শুরু থেকে ধারাবাহিক ব্যাটিং এবং মিডল অর্ডারের স্থিতিশীলতায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রোটিয়ারদের ব্যাটিং লাইনআপে একক শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কতটা গুরুত্ব রয়েছে। মিলারের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দলের জন্য ক্রান্তিকালীন মুহূর্তে প্রয়োজনীয় রান যোগ করতে সক্ষম। তার ইনিংস ভারতের বোলিং আক্রমণকে একাধিকবার চাপের মধ্যে ফেলেছে এবং দলের মনোবল বাড়িয়েছে।
ম্যাচের শেষ দিকে স্টাবসের ঝুঁকিপূর্ণ খেলাও আফ্রিকার জন্য ফলপ্রসূ হয়েছে। মাত্র ২৪ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত থাকা তার ব্যাটিং দলের সংগ্রহকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে। এটি প্রমাণ করেছে যে শেষ ওভার পর্যন্ত ঝুঁকি নেওয়া ও উদ্দীপক খেলাই দলকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রাখে।
আগামী দিনে ভারতের ব্যাটিং ও আফ্রিকার বোলিং পারফরম্যান্স ম্যাচের ফলাফলের দিক নির্ধারণ করবে। ভারতকে লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয়ার জন্য ১৮৭ রান সংগ্রহ আফ্রিকার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি, যা তাদের সুপার এইটের সম্ভাবনাকে দৃঢ় করেছে।