মালয়েশিয়ায় ৭.১ মাত্রার গভীর ভূমিকম্প, আতঙ্ক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
মালয়েশিয়ায় ৭.১ মাত্রার গভীর ভূমিকম্প, আতঙ্ক

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়া আবারও শক্তিশালী ভূমিকম্পের অভিঘাতে কেঁপে উঠেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বোর্নিও দ্বীপ–এর সাবাহ রাজ্যে রোববার গভীর রাতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পটির মাত্রা বড় হওয়ায় প্রথমদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও এর গভীরতা বেশি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় রাত ১২টা ৫৭ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ঘুমন্ত শহর হঠাৎ কম্পনে কেঁপে ওঠায় অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন। বিশেষ করে সাবাহ রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চল এবং আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

ভূমিকম্পটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাবাহ রাজ্যের রাজধানী কোটা কিনাবালু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে, সমুদ্রের নিচে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৬১৯ দশমিক ৮ কিলোমিটার, যা সাধারণ ভূমিকম্পের তুলনায় অনেক বেশি গভীরে অবস্থিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের গভীরতা যত বেশি হয়, ভূপৃষ্ঠে এর প্রভাব তত কম অনুভূত হয়। এ ধরনের ভূমিকম্পকে ‘ডিপ-ফোকাস আর্থকোয়েক’ বলা হয়। এ কারণে এই শক্তিশালী কম্পন সত্ত্বেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা প্রাণহানির সম্ভাবনা খুবই কম বলে মনে করছেন তারা।

ভূমিকম্পের পরপরই আন্তর্জাতিকভাবে সুনামির ঝুঁকি আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। তবে মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, এই ভূমিকম্প থেকে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই এবং কোনো সতর্কতা জারি করা হয়নি। এই ঘোষণার পর স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে।

মালয়েশিয়ার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাবাহর পশ্চিম উপকূল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী সারাওয়াক রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের সময় সাবাহর কয়েকটি শহরে অবস্থানরত বাসিন্দারা জানান, প্রথমে তারা হালকা কম্পন অনুভব করেন, পরে সেটি কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। কেউ কেউ জানান, ঘরের ঝাড়বাতি ও আসবাবপত্র দুলতে দেখা যায়। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “হঠাৎ করে বিছানা কেঁপে ওঠে। প্রথমে বুঝতে পারিনি কী হচ্ছে, পরে বুঝলাম ভূমিকম্প। সঙ্গে সঙ্গে বাইরে বের হয়ে আসি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বোর্নিও দ্বীপ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করলেও বড় ধরনের ভূমিকম্প সেখানে তুলনামূলক কম ঘটে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ‘রিং অব ফায়ার’ নামে পরিচিত ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের নিকটে হওয়ায় মাঝেমধ্যে এই ধরনের কম্পন অনুভূত হয়।

অতীতে সাবাহ রাজ্যে ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৫ সালে এই অঞ্চলে ৬ দশমিক ০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল, যাতে কয়েকজন নিহত হন এবং বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেই অভিজ্ঞতা থেকে স্থানীয় প্রশাসন এখন অনেক বেশি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পটি গভীর হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্ভাবনা কম। তবে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে সতর্ক রয়েছে।

ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবনে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যদিও এবারের ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবুও এটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে পুরনো স্মৃতি জাগিয়ে তুলেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ভূমিকম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি যেকোনো সময় তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, জরুরি সেবা প্রস্তুত রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা ভূমিকম্প-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমে এসেছে।

এই ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল, পৃথিবীর অভ্যন্তরে চলমান প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তবে প্রস্তুতি, সচেতনতা এবং দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে এর ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। মালয়েশিয়ার সাবাহ রাজ্যের মানুষ এখন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও প্রকৃতির এই শক্তির প্রতি তাদের সতর্কতা আগের চেয়ে আরও বেড়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত