মৃত্যু ও পুনরুত্থান: কোরআনের অকাট্য যুক্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১ বার
মৃত্যু ও পুনরুত্থান: কোরআনের অকাট্য যুক্তি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

কোরআনুল কারিমে মৃত্যুর পর পুনরুত্থান নিয়ে অসংখ্য আয়াতের মধ্যে একটি বিশেষ আলোচ্য বিষয় হল সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৫১। এই আয়াতে মানুষকে প্রথমবার সৃষ্টি করার আল্লাহর ক্ষমতা এবং একইসঙ্গে পুনরায় জীবিত করার নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি স্মরণ করানো হয়েছে। আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষের অন্তরে যেকোনো বিষয় যত বড় মনে হোক না কেন, তারা প্রশ্ন তুলবে—‘কে আমাদের পুনরায় জীবিত করবে?’ এ প্রশ্নের জবাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তিনিই আমাদের পুনর্জীবিত করবেন যিনি প্রথমবার আমাদের সৃষ্টি করেছেন। এর মাধ্যমে কোরআন মানুষের কাছে মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের অটল সত্যকে উদ্ভাসিত করেছেন।

মুজাহিদ, ইবন কাসীর, ইবন আব্বাস ও অন্যান্য তাফসীরবিদদের ব্যাখ্যা অনুসারে এখানে যা বড় মনে হয়, যেমন আসমান, যমীন বা পাহাড়, তা জীবন ও মৃত্যুর মহান প্রেক্ষাপটের প্রতীক। মানুষের কাছে মৃত্যু সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ ঘটনা। বনী আদমের কাছে মৃত্যুর চেয়ে বড় আর কোনো বিষয় নেই। তাই আয়াতটি ব্যাখ্যা করে বলা হয়েছে, যদি তোমরা মৃত্যুর পরও চরম হতাশা বোধ করো, আল্লাহ তোমাদের পুনর্জীবিত করবেন। ফাতহুল কাদীর ও অন্যান্য তাফসীর অনুসারে এটি মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের অত্যন্ত স্পষ্ট নিদর্শন।

আয়াতের প্রথম অংশে পুনর্জীবনের সম্ভাব্যতা উল্লেখ করে আল্লাহ বলেন, “যিনি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তিনিই পুনরায় সৃষ্টি করবেন।” এর মাধ্যমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করা হয়েছে। প্রথম, যারা সন্দেহ করছে, তারা আল্লাহর সর্বশক্তিমত্তা সম্পর্কে ভুল ধারণা করে। যদি তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করতে সক্ষম হন, তাহলে পুনরায় সৃষ্টি করা তার জন্য সহজ কাজ। দ্বিতীয়, পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করা মানুষের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ভুল এবং অজ্ঞতার প্রতিফলন। এটি আমাদের শেখায়, আল্লাহর ক্ষমতার সীমা আমাদের ধারণার বাইরে এবং তিনি যে কোনও সময় মৃতদের পুনরায় জীবিত করতে পারেন।

আয়াতে উল্লেখিত “তারা আপনার সামনে মাথা নাড়বে” অংশটি আরবি শব্দ ‘ইনগাদ’ দ্বারা প্রকাশিত। ইবন কাসীরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি বিস্ময়, বিভ্রান্তি বা কৌতূহলের প্রকাশ। কখনও তারা পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করে এভাবে মাথা নাড়ে, কখনও আবার তারা আগ্রহীভাবে প্রশ্ন করে, ‘এটি কবে ঘটবে?’ এই আচরণ কোরআনের অন্যান্য স্থানে, যেমন সূরা আল-মুলক ২৫ এবং আস-শূরা ১৮-এও উল্লেখিত। এতে বোঝা যায়, মানুষ মৃত্যুর পর জীবনের বিষয়টি নিয়ে প্রাথমিকভাবে দ্বিধা ও কৌতূহলে থাকে।

এ আয়াত মানব মনকে মৃত্যুর অবধারিত সত্যের সঙ্গে পরিচিত করায় এবং একই সঙ্গে পুনরুত্থানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে। প্রথমবার সৃষ্টি এবং দ্বিতীয়বার পুনরুত্থান—এই অনুক্রমে আল্লাহর অমিত শক্তি প্রদর্শিত হয়। তাফসীরবিদরা এটিকে মানুষের জন্য এক শিক্ষণীয় বার্তা হিসেবে দেখেছেন, যা আধ্যাত্মিক সচেতনতা ও ঈমান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ ছাড়াও আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মৃত্যুর পর জীবন কেবল সৃষ্টির একটি ধারাবাহিকতা। আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্তে মানুষের জীবনের প্রতিটি পর্ব অন্তর্ভুক্ত। তাই মৃত্যুর প্রতি ভয় বা হতাশা নয়, বরং ঈমান ও আস্থা স্থাপন করা প্রয়োজন। মানুষের সন্দেহ ও প্রশ্ন উত্থাপন করা স্বাভাবিক, তবে আল্লাহর ক্ষমতার প্রতিফলন ও পুনর্জীবনের নিশ্চয়তা মানুষের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে।

সংক্ষেপে, সুরা বনি ইসরাঈল আয়াত ৫১-এর শিক্ষা হলো—মৃত্যু জীবনের অন্ত নয়, বরং পুনর্জীবনের জন্য প্রস্তুতির আহ্বান। যারা এই আয়াতের ব্যাখ্যা অনুসরণ করে তাদের মধ্যে ঈমান, ভরসা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। এটি শুধুমাত্র তাত্ত্বিক নয়, বরং মানব জীবনের বাস্তবিক প্রয়োগ ও আত্মিক সচেতনতার জন্য একটি শক্তিশালী দিক নির্দেশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত