খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত: মোদির লক্ষ্য ভারত–ব্রাজিল বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
খনিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত: মোদির লক্ষ্য ভারত–ব্রাজিল বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভারত ও ব্রাজিল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গভীর করার জন্য একটি নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষর করা হয়েছে। শনিবার খনিজ সম্পদ খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। মূল লক্ষ্য হলো ভারতের ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ ইস্পাত চাহিদা মেটানো এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে কাঁচামালের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সক্ষমতা সম্প্রসারণ।

চুক্তিতে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট তিন দিনের সফরে নয়াদিল্লিতে এসেছিলেন। ব্রাজিল বিশ্বের শীর্ষ লৌহ আকরিক উৎপাদক দেশগুলোর মধ্যে একটি এবং ইস্পাত উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিপুল মজুদ রয়েছে।

ভারতের সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি ইস্পাত শিল্প বৃদ্ধির জন্য কাঁচামাল ও প্রযুক্তিতে ভারতের প্রবেশাধিকার বাড়াতে উভয় দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অপরিহার্য। এই চুক্তি অনুসন্ধান কার্যক্রম, খনন ও ইস্পাত খাত সম্পর্কিত অবকাঠামোতে বিনিয়োগ আকর্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেবে। বর্তমানে ভারতের ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা ২১৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্পায়নের ফলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

লুলার নেতৃত্বে ব্রাজিলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে ভাষণকালে মোদি বলেন, ‘আমরা আগামী পাঁচ বছরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়েছি। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, এআই, সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরো গভীর হবে।’ বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলারে স্থিত।

ভারত ও ব্রাজিল ২০০৬ সাল থেকে কৌশলগত অংশীদার। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, কৃষি, স্বাস্থ্য, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বিস্তৃত। ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রাজিলই ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এছাড়া, জাতিসংঘের সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সন্ত্রাসবাদ দমনসহ বৈশ্বিক ইস্যুতে ভারত ও ব্রাজিল ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দেশটিকে কোনো নতুন ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ চাই না বলে জানান। নয়াদিল্লি সফর শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে লুলা বলেন, ‘আমরা অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে চাই না এবং সব দেশের প্রতি সমান আচরণের আহ্বান জানাই।’ আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে লুলার ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, অভিবাসন, বিনিয়োগ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশীদারিত্বসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনার এজেন্ডায় থাকবে।

এ চুক্তি ভারত ও ব্রাজিলের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি শিল্প ও অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করবে। খনিজ সম্পদ ও প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে উভয় দেশই ইস্পাত খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের নিরাপদ ও স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত হবে। মোদি ও লুলার দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করবে।

এই পদক্ষেপের ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্পাত উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং স্থানীয় শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সহজলভ্য হবে। ভারত-ব্রাজিলের সহযোগিতা প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং কৌশলগত খাতেও বিস্তৃত হবে, যা দুই দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ভারত-ব্রাজিল দুই দেশের নেতারা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও কাঁচামাল নিরাপত্তা ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ২০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করার পথে শক্ত ভিত্তি তৈরি হবে। এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উন্নত করবে না, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বকেও দৃঢ় করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত