চট্টগ্রামে রান্নাঘরের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ২৯ বার
চট্টগ্রামে রান্নাঘরের গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ৯ জন

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রামের হালিশহরে একটি বহুতল ভবনের তৃতীয় তলায় ভোরের সময় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে নারী-শিশুসহ নয়জন দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিশহরের এইচ ব্লকের এসি মসজিদ সংলগ্ন হালিমা মঞ্জিল নামের ছয়তলা ভবনের ওই বাসায় বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়।

দগ্ধদের মধ্যে আটজনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন—শাখাওয়াত হোসেন (৪৬), মো. শিপন (৩০), মো. সুমন (৪০), মো. শাওন (১৭), মো. আনাস (৭), মো. আইমান (৯), আয়েশা আক্তার (৪) ও পাখি আক্তার (৩৫)। আহত সবাইকে তৎক্ষণাৎ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থাই শঙ্কাজনক।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বিস্ফোরণের পর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দগ্ধদের উদ্ধার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য কার্যক্রম শুরু করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা আগেই আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, বিস্ফোরিত বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহৃত হয়নি। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাস ব্যবহৃত হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রান্নাঘরের চুলা থেকে গ্যাস লিক হওয়ায় সেখানে গ্যাস জমে যায় এবং তার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি বলেন, “বাড়ির অভ্যন্তরে গ্যাসের জমাট কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে।”

দগ্ধদের স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই বাসাটিতে মূলত দুই ভাইয়ের পরিবার বসবাস করত। সম্প্রতি বিদেশ থেকে তাদের আরেক ভাই দেশে এসে চিকিৎসার জন্য পরিবারসহ বাসাটিতে অবস্থান করছিলেন। তিনটি পরিবারের সদস্যরাই বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়েছেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের সময় আতঙ্কের কারণে অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. মকবুল হোসেন দগ্ধদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, “পরিবারের সবাই আতঙ্কে ছিল। দ্রুত উদ্ধার না করলে দগ্ধদের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত।” স্থানীয়দের তৎপরতায় আহতদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত হয়েছে।

এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতার অভাব এবং সময়মতো নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসও এলাকাবাসীর প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দগ্ধদের অবস্থা স্থিতিশীল না হলেও চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের জীবন রক্ষা সম্ভব। তবে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য আরও সতর্কতার প্রয়োজন। তারা আরও বলেন, বিস্ফোরণ ও আগুনের কারণে শারীরিক ক্ষতি ও মানসিক আঘাত গভীর হতে পারে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা শুধুমাত্র গ্যাসের ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সচেতনতার অভাবের প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আবাসিক এলাকায় গ্যাস সংযোগের মান নিয়ন্ত্রণ, সিলিন্ডার পরীক্ষা ও সঠিক সংযোগ পদ্ধতি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। এছাড়া, পরিবার ও স্থানীয়দের আগুন নিয়ন্ত্রণ ও জরুরি অবস্থায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানার প্রস্তুতি থাকা উচিত।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন বলেন, “ঘরে গ্যাস লিক হলে শিখা বা কোনো বৈদ্যুতিক স্পার্কও মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে। তাই গ্যাস ব্যবহার ও সংযোগে সব সময় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।”

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে ভবন মালিক এবং বাসিন্দাদের প্রতি নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, গ্যাস লিকেজ ও আগুন লাগার কোনো ঘটনা ঘটলে জরুরি হটলাইন ব্যবহার করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের হালিশহরের এই বিস্ফোরণ একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রান্নাঘরে গ্যাস ব্যবহারে সকলকে সচেতন থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়। পরিবার, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সরঞ্জামের পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত