পটুয়াখালী ইলিশ নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের উদ্বেগ বৃদ্ধি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
পটুয়াখালী ইলিশ নিষেধাজ্ঞা, জেলেদের উদ্বেগ বৃদ্ধি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পটুয়াখালীতে ইলিশের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য ধরে সরকারের আগ্রাসী পদক্ষেপ হিসেবে মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস জাটকা সংরক্ষণ এবং নদীর অভয়াশ্রমে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিশেষত মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীসহ ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে এই দুই মাসে সকল ধরনের মাছ ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। জেলেরা বলছেন, দীর্ঘদিন নদীতে কাজ না করার ফলে তারা অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। তাই নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করতে তারা স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তৎপরতা দাবি করছেন।

জানা যায়, পহেলা মার্চ থেকে পটুয়াখালী পায়রা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হবে এবং চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। নদীতে মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও নৌবাহিনী সমন্বয়ে প্রতিদিন অভিযান চালানো হবে। এসময় ১০ ইঞ্চির কম সাইজের ইলিশ আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলাদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নদীতে মাছ ধরা বন্ধ রাখার জন্য অনেক ট্রলার ইতিমধ্যেই ঘাটে ফিরে এসেছে। কিছু জেলে আগেভাগেই তাদের জাল ও নৌকা তীরে তুলছেন। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে নদীতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আশা করি জেলেদের সঠিক সময়ে সরকারি চাল সরবরাহ করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, কোনো অসাধু জেলে যাতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য না করে, সেই বিষয়টি কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে।

পটুয়াখালী জেলায় এই দুই মাস জাটকা আহরণ বন্ধ থাকায় এক লাখের বেশি জেলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন। সরকার এই অবস্থার কথা বিবেচনা করে ৫০,৭৫০ জন জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে সরকারি চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এ ছাড়া জেলাদের মধ্যে বিত্তহীন এবং ঋণগ্রস্তদের জন্য এনজিও ও সরকারি সাহায্য কার্যক্রম চলবে। তবে অনেক জেলে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় নদীতে মাছ ধরতে না পারার কারণে তাদের সংসার চলবে না। তাই তারা সহায়তা সময়মতো না পেলে নানা ধরণের অসুবিধার মুখোমুখি হবেন।

জেলেরা আরও জানিয়েছেন, এই দুই মাসে সরকারি সহায়তার সঙ্গে অভিযানের সমন্বয় না হলে অসাধু জেলেরা নদীতে মাছ ধরতে বাধ্য হতে পারে। এতে ইলিশের সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। জেলা মৎস্য বিভাগ এবং নৌবাহিনী ইতিমধ্যেই পটুয়াখালীর নদীতে নজরদারি শুরু করেছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় বিশেষভাবে মনোনিবেশ করা হচ্ছে নদীর অভয়াশ্রম ও সংরক্ষিত এলাকার ওপরে।

পটুয়াখালীর জেলারা জানাচ্ছেন, সরকারি সহায়তা না পেলে শ্রমিকরা দৈনিক জীবিকার জন্য নতুন উপায় খুঁজতে বাধ্য হবেন। বিশেষত বিদেশ থেকে ঋণ বা ঋণগ্রস্ত জেলেরা চলতি দুই মাসে অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী জানান, নদীতে অভিযান চলাকালীন জেলেদের খাদ্য ও জীবিকার বিষয়গুলোও নজরদারিতে থাকবে।

দেশের অন্যান্য নদীতে যেমন মেঘনা ও বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তেমনি রাঙ্গাবারী উপজেলার ৫০ কিলোমিটার এলাকায়ও মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এই দুই মাস নদীতে মাছ ধরার ওপর কঠোর নজরদারি করা হবে, যাতে জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি লক্ষ্য সফল হয়।

জেলেরা সরকারের নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য বোঝেন, তবে দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার কারণে অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। এজন্য তারা চান সরকারি ও এনজিও সহায়তা নিশ্চিত করা হোক। জেলার মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেছেন, জেলেদের সঠিক সময়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিতে পারলে অভিযান সফল হবে।

এদিকে মৎস্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাটকা সংরক্ষণ এবং নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন নৌবাহিনী ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এই উদ্যোগ ইলিশের সংরক্ষণ ও নদীর পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে সরকারি নীতি ও স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতা অপরিহার্য।

পটুয়াখালী জেলেরা সচেতন, সরকারি সহায়তা পেলে নিষেধাজ্ঞা মানা সম্ভব। অন্যথায় নদীতে অনৈতিক মাছ আহরণ হতে পারে, যা ইলিশের উৎপাদন হ্রাস এবং সংরক্ষণে প্রভাব ফেলবে। ফলে জেলার অর্থনীতি ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা বিপন্ন হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত