প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কালাইয়ের আহম্মেদাবাদ ইউনিয়নের বোড়াই গ্রামে গত শনিবার এক কৃষকের জমি থেকে সরিষা কেটে নেওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ আসে, জেলা যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়া নেতৃত্বে দলবল নিয়ে মোমিন ইসলাম নামে একজন কৃষকের জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে তিনি চাষ করা সরিষা কেটে নেন। মোমিন ইসলাম বিষয়টি জেলা পুলিশকে জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মোমিন ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা মৃত্যুর পর চাচাদের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বড় চাচা আফছার আলীর মেয়ের স্বামী মেহেদী মাছুম এই বিরোধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, শনিবার মেহেদী মাছুম যুবদল ও ছাত্রদলের ২০-২৫ জন সমর্থককে নিয়ে মোমিন ইসলামের জমিতে প্রবেশ করেন এবং সরিষা কেটে নেওয়া শুরু করেন। বাধা দিলে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখানো হয়। চাষিরা কোনো উপায় না পেয়ে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছান, কিন্তু তার আগেই তারা সরিষা কেটে নিয়ে চলে যান। পরে কালাই কৃষি ব্যাংকপাড়ার মেহেদী মাছুমের বাড়ির সামনে থেকে স্তূপ করা সরিষা উদ্ধার করা হয়।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মেহেদী মাছুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরিষা কেটে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ওই জমি তাঁর শ্বশুর আফছার আলীর। তাঁর মতে, মোমিন ইসলাম জোর করে জমি দখল করে চাষাবাদ করছেন, তাই তিনি লোকজন নিয়ে সরিষা কেটে আনেন। যুবদলের সদস্য ফিতা মিয়া জানান, মেহেদী মাছুমের কথায় তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে কোন ধরনের অনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেননি। তিনি পুলিশকে জানিয়ে দুটি পক্ষকে থানায় ডেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মোক্তাদুল হক আদনান বলেন, এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে নজরে এসেছে। সংগঠনের কারও সম্পৃক্ততা পেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম সমকালকে জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনা হবে।
স্থানীয়রা জানান, কৃষকদের জন্য জমির চাষাবাদ এবং উৎপাদিত ফসল রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা তাদের জমিতে আইনসম্মতভাবে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই ধরনের ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট কৃষককেই নয়, পুরো এলাকার কৃষিজীবী সম্প্রদায়কে অস্থির করে তোলে। কৃষি উৎপাদন ও সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সতর্ক অবস্থান অপরিহার্য।
মোহনপুর, থুপসাড়া, বেগুনগ্রাম ও মাদারপুরের বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা জানাচ্ছেন, জমি নিয়ে বিরোধ সাধারণ ঘটনা হলেও রাজনৈতিক নেতাদের দ্বারা সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সহিংসতার পথ বেছে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ঘটনায় স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও যুবক সমাজে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড স্থানীয় শান্তি ও সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করছে।
কৃষক মোমিন ইসলাম পুলিশের সহায়তায় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আশা করা যায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে তার ফসল রক্ষা এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।