প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী দপ্তরে (সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ) অফিস করেছেন। সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রীর অফিসে পৌঁছানোর পর তিন বাহিনীর প্রধানগণ তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা দেশের সামরিক ও নাগরিক প্রশাসনের মধ্যে সুসংহত সম্পর্কের প্রতিফলন।
দীপদীপ্ত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরীকে ‘র্যাঙ্ক ব্যাজ’ পরিয়ে দেন। এই র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে, কারণ এটি কেবল পদোন্নতি নয়, বরং দেশের নিরাপত্তা ও দায়িত্ববোধের স্বীকৃতি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মো. মেহেদুল ইসলাম।
সশস্ত্র বাহিনী দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর প্রথমবারের এই অফিস দেশের সামরিক বাহিনীর ওপর নাগরিক সরকারের সরাসরি পর্যবেক্ষণ এবং সহযোগিতার একটি প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক কর্মকর্তা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এই সংহতি দেশের নিরাপত্তা নীতি ও পরিচালনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী অফিস করার সময় বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি, সামরিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন, যা দেশের প্রতিরক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করতে সহায়ক হবে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে তিন বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও দৃঢ় হবে। কর্মকর্তাদের মনোবল বৃদ্ধি পাবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের তদারকি আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। বিশেষত র্যাঙ্ক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠান সামরিক কর্পোরেশনের জন্য একটি উৎসাহজনক ও প্রেরণাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর এই পদক্ষেপ সামরিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের দৃঢ়তা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামরিক নীতি ও জননিরাপত্তা পরিকল্পনায় নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করবে।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা উপদেষ্টা ও সচিবগণ বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছে সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং বাহিনী পরিচালনার আধুনিকায়ন সম্পর্কিত বিষয়াদি। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি উপস্থিতি এই সকল প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও দৃষ্টিনন্দন করেছে।
দেশের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর এই পদক্ষেপ দেশের সামরিক বাহিনীকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। এর ফলে বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও কর্তব্যনিষ্ঠা বৃদ্ধি পাবে। এটি সামরিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী এই সফরের মাধ্যমে বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ স্থাপন করেছেন, যা ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া এটি দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রদর্শন করে।
এ ধরনের পদক্ষেপ সাধারণ জনগণের কাছেও এক বার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা নির্দেশ করছে যে সরকার দেশের সুরক্ষা ও সামরিক দক্ষতা উন্নয়নের জন্য সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এটি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও নাগরিক প্রশাসনের মধ্যে সহযোগিতা আরও দৃঢ় করবে এবং জাতীয় স্বার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।