প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
রমজান মাসের আগমনেই বরিশালের বাজারে ভোগ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ফল, সবজি, মাংস, মাছ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একসঙ্গে বেড়ে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে একেকটি পণ্যের দাম একশ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। ক্রেতারা বলছেন, এমন পরিস্থিতি রোজাদারদের জন্য ইফতার ও সেহরির আয়োজন কঠিন করে তুলেছে।
রোজাদারের প্রধান অনুসঙ্গ খেজুরের বাজারেই দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। সাধারণ মানের খেজুর এখন ৩শ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। উন্নত মানের খেজুর তো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। আজও বাজারে আজওয়া খেজুর বিক্রি হচ্ছে ১৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা, মেডজুল ১২শ থেকে ১৫শ টাকা, মরিয়ম ১১শ থেকে ১৪শ টাকা, জাহিদী ৩শ ৫০ টাকা এবং খুরমা খেজুর ৪শ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
ফলের বাজারেও একই চিত্র। কেজিপ্রতি আঙুর, আপেল, কমলা ও মাল্টার দাম বাড়ছে ক্রমাগত। কালো আঙুর ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, সাদা আঙুর ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, আপেল ৩২০ থেকে ৩৮০ টাকা এবং আনার ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
সবজির বাজারও অস্থির। রমজানের আগে লেবুর হালি ২০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৮০ টাকায় পৌঁছেছে, যা ৩০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি। বেগুন বিক্রি হচ্ছে ১শ থেকে ১শ ২০ টাকায়, কাঁচা মরিচ ২শ থেকে আড়াইশ টাকায়, করল্লা ২শ থেকে ২শ ২০ টাকা, শসা ১শ থেকে ১শ ২০ টাকায়।
মাছ ও মাংসের বাজারেও স্বস্তি নেই। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮শ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার মুরগীর দাম বৃদ্ধি পেয়ে ১৬০ টাকা থেকে ১৯০ টাকা কেজি হয়েছে, আর সোনালী মুরগী বিক্রি হচ্ছে সাড়ে তিনশ টাকা কেজিতে।
নগরীর নতুন বাজারের এক নারী ক্রেতা জানিয়েছেন, “রমজানের আগের তুলনায় সবজির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। এই হারে চললে দৈনন্দিন ক্রয়কষ্টসাধ্য হবে।” অন্যদিকে রসুলপুরের সালাম মিয়া বলেন, “ব্রয়লার মুরগির দাম কয়েকদিনে দ্বিগুণ হয়েছে। সাধারণ মানুষ কেনাকাটায় সমস্যায় পড়েছে।”
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, “আমদানীর ঘাটতি, ফলের ওপর বাড়তি কর এবং সরবরাহ সীমিত হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।” ফলপট্টি রোডের জামাল ফল হাউজের আশরাফ হোসেন বলেন, “আমদানিকৃত প্রতিটি ফলে বাড়তি কর দিতে হয়। কোনো ফলের দাম যদি তিন হাজার টাকা হয়, সেখানে কর যুক্ত হলে দাম আরও দ্বিগুণ হয়ে যায়।”
তবে টিসিবি পণ্যের বিক্রিও চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। ডাল, ছোলা ও তেলের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন, “ভোক্তা অধিদফতরকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূল্য নিয়ে কেউ বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। রমজানের আগে বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও, দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এখনো পর্যাপ্ত নয়। ফলে ক্রেতারা চাইছেন বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও সংযমিত মূল্য নির্ধারণের ব্যবস্থা। বরিশালের বর্তমান বাজার পরিস্থিতি প্রমাণ করছে, রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর চাপ সামলাতে প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।