প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আলিয়া ভাট আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার অনন্য দ্যুতি ছড়ালেন। ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ডস বা বাফটার ৭৯তম আসরে উপস্থাপিকার দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি শুধু তার উপস্থিতি নয়, বরং নিজ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে সবার মন জয় করেছেন।
লন্ডনের ঐতিহাসিক রয়ার ফেস্টিভ্যাল হল-এ সাউথব্যাঙ্ক সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চলচ্চিত্র তারকারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির মূল দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও উপস্থাপক আলান কামিং, যিনি সেরাদের হাতে পুরস্কার তুলে দিতে এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন প্রধান।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত বাফটায় আলিয়া ভাট রুপালি গাউনে ধরা দেন। মঞ্চে উঠে সেরাদের নাম ঘোষণা করার সময় তিনি দর্শকদের দিকে মুখ করে বললেন, “নমস্কার।” এরপরই তিনি হিন্দিতে ঘোষণা করলেন, “পরের পুরস্কারটি এমন একটি সিনেমার জন্য, যা ইংরেজি ভাষায় নয়।” তার এই স্বাভাবিকভাবে আত্মবিশ্বাসী বক্তব্যে দর্শকরা মুহূর্তেই আনন্দে ফেটে পড়েন।
দর্শকরা হিন্দি বুঝতে না পারায় আলিয়া মজা করে বললেন, “এইটুকু বুঝার জন্য এখনই সাবটাইটেল খুঁজতে যাবেন না! আমি হিন্দি ভাষায় বলেছি, পরের পুরস্কারটি এমন একটি সিনেমার জন্য, যা ইংরেজি ভাষায় নয়।” মুহূর্তেই দর্শকের হাসি আর করতালিতে পুরো হল মুখরিত হয়ে ওঠে। আলিয়ার এই বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসের ভিডিও মুহূর্তে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা আলিয়ার সাহসী এবং সৃজনশীল উপস্থাপনার প্রশংসা করছেন, এবং তার ভক্তরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখযোগ্য যে আলিয়া ভাট এই অনুষ্ঠানে সেরা ইংরেজি-বহির্ভূত চলচ্চিত্র বিভাগের পুরস্কার প্রদান করেন। এই বিভাগে মনোনীত সিনেমাগুলো ছিল ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’, ‘দ্য সিক্রেট এজেন্ট’, ‘সিরাট’, ‘দ্য ভয়েজ অব হিন্দ রাজব’ এবং ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’। পাঁচটি সিনেমার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর সেরা হিসেবে পুরস্কার জিতে নেয় ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’।
আলিয়ার এই উপস্থিতি শুধু তার ব্যক্তিগত কেরিয়ার নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ভাষার পরিচয়ও উজ্জ্বল করেছে। হিন্দি ভাষার প্রতি তার সম্মান প্রদর্শন এবং আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তা আত্মবিশ্বাসের সাথে উপস্থাপন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশসহ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার দর্শককেও অনুপ্রাণিত করেছে।
এদিকে বাফটা মঞ্চে আলিয়ার আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও সংবাদ হয়েছে। দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা তার সৃজনশীলতা, সাহস এবং ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে প্রশংসা করেছেন। এই আয়োজন প্রমাণ করেছে, অভিনেত্রী কেবল তার অভিনয়ের মাধ্যমে নয়, বরং বুদ্ধিমত্তা ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরা মন্তব্য করছেন, “আলিয়া ভাট শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি সংস্কৃতির দূত।” অনেকেই বলছেন, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে নিজ দেশের ভাষা আত্মবিশ্বাসের সাথে উপস্থাপন করায় তিনি নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।
আলিয়ার বাফটা মঞ্চে উপস্থিতি শুধু এক ব্যক্তি নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিচয়ও হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক দর্শকরা হিন্দি ভাষা শুনে উৎসাহিত হয়েছেন, এবং এই ছোট্ট মুহূর্ত ভারতীয় সিনেমা ও সংস্কৃতির প্রতিভা তুলে ধরেছে।
সার্বিকভাবে, আলিয়া ভাটের এই মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রশংসিত হয়েছে। বাফটার মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে নিজ দেশের ভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং দর্শকের মন জয় করা সত্যিই বিশেষ দৃষ্টান্ত। তার এই সাহস ও উদ্ভাবনী মনোভাব ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক আয়োজনের জন্য নতুন উদাহরণ হয়ে থাকবে।