প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর সংবাদমাধ্যমকে জানান, আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও আন্তরিক হয়েছে। তিনি বলেন, “পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভালো আলোচনা হয়েছে। আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত।”
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন টুইট বার্তায় আরও বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে খলিলুর রহমানকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানাই। আমাদের উভয় দেশকে নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে যৌথভাবে কাজ করার যে সুযোগ রয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এই আলোচনা বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। উভয় পক্ষই এই আলোচনাকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়নের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করেন।
এদিন বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠক আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তারা মনে করেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উষ্ণ ও আন্তরিক আলোচনা দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
বিশ্লেষকরা আরও বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকবে না; বরং অর্থনীতি, নিরাপত্তা, শিক্ষাক্ষেত্র এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ক্ষেত্রে দু’দেশের অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হবে। তারা আশা করছেন, নতুন সরকার এবং মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এই ধারা দীর্ঘমেয়াদি ও ফলপ্রসূ হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানও সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেছি। শিক্ষা, প্রযুক্তি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরও সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এটি আমাদের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সময় এই ধারা বজায় রাখা ও শক্তিশালী করা দেশকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও দৃঢ় অবস্থানে স্থাপন করবে।
অন্যদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন টুইট বার্তায় দেশের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক শক্তি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-মার্কিন অংশীদারিত্ব দীর্ঘমেয়াদি ও ফলপ্রসূ হবে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য সমৃদ্ধির দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সাক্ষাতের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই আলোচনাকে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক ও উষ্ণ সম্পর্ক বাংলাদেশের বিদেশনীতি ও দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।