প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে নতুন করে আরও দুইটি কারখানা সবুজ বা পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল (USGBC) এই দুই প্রতিষ্ঠানকে লিড (LEED) সনদ দিয়েছে। বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (BGMEA) সূত্রে জানা গেছে, এই স্বীকৃতির ফলে দেশের পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭৫টিতে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ২৭৫টি কারখানা লিড সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে লিড প্লাটিনাম ১১৬টি, লিড গোল্ড ১৪০টি, লিড সিলভার ১৫টি এবং সার্টিফায়েড ৪টি। নতুন স্বীকৃত কারখানাগুলো হলো গাজীপুরের ফ্যাশন ফ্লোর বিডি লিমিটেড ও এমএনআর স্যোয়েটারস লিমিটেড। ফ্যাশন ফ্লোর ৭১ পয়েন্ট পেয়ে লিড গোল্ড, এবং এমএনআর স্যোয়েটারস ৮৫ পয়েন্ট পেয়ে লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের USGBC পরিবেশবান্ধব স্থাপনা ও উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ‘লিড’ বা Leadership in Energy and Environmental Design নামে একটি সনদ প্রদান করে। এটি শুধু নতুন নির্মিত ভবন নয়, পুরনো ভবন সংস্কারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। লিড সনদ অর্জনের জন্য নির্মাণ থেকে উৎপাদন পর্যন্ত পরিবেশগত মান এবং স্থায়িত্বের বিভিন্ন দিক বজায় রাখতে হয়।
লিড সনদের জন্য ৯টি মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে সর্বমোট ১১০ পয়েন্টের ভিত্তিতে সনদ প্রদান করা হয়। পয়েন্ট স্কেলে ৮০ বা তার বেশি হলে ‘লিড প্লাটিনাম’, ৬০ থেকে ৭৯ পয়েন্ট হলে ‘লিড গোল্ড’, ৫০ থেকে ৫৯ পয়েন্ট হলে ‘লিড সিলভার’ এবং ৪০ থেকে ৪৯ পয়েন্ট হলে ‘লিড সার্টিফায়েড’ সনদ দেওয়া হয়। লিড সনদ অর্জন করা মানে প্রতিষ্ঠানটি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সাফল্য নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত করছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের পোশাক খাতের এই ধরনের উদ্যোগ শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ড মান ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানও বৃদ্ধি করবে। পরিবেশবান্ধব কারখানা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ তারা ক্রমেই সবুজ ও স্থায়ী উৎপাদন ব্যবস্থার পক্ষে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোতে শক্তি ও পানি ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য কাঁচামালের ব্যবহার এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নের দিকগুলো গুরুত্বসহকারে মানা হয়। এটি বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।
ফ্যাশন ফ্লোর বিডি লিমিটেডের কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটি লিড গোল্ড সনদ অর্জনের মাধ্যমে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় শক্তি ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করেছে। এমএনআর স্যোয়েটারস লিমিটেডও লিড প্লাটিনাম সনদ অর্জনের মাধ্যমে দেশের পোশাক খাতের মান বৃদ্ধি করেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার জন্য আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশে পোশাক খাতের পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, কর্মীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও বলেন, এই উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত সম্ভাবনার দরজা খুলছে। কারণ ক্রেতারা পরিবেশ ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের এই ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও বাজারে বাংলাদেশের অবস্থানকে দৃঢ় করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলো দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে টেকসই উৎপাদন ও সবুজ উদ্যোগের এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
এছাড়া, BGMEA জানিয়েছে, তারা আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক কারখানাকে লিড সনদ অর্জনের জন্য উৎসাহিত করবে। এটি দেশের পোশাক খাতকে শুধু আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে না, বরং পরিবেশ সংরক্ষণে ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
পরিবেশবান্ধব কারখানা সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত আরও টেকসই ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক হবে। এটি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং পরিবেশ সুরক্ষার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখবে।