সূচকের বড় উত্থানে চাঙা পুঁজিবাজার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
সূচকের বড় উত্থানে চাঙা পুঁজিবাজার

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি  ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পুঁজিবাজারে নতুন সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে ফিরেছে আশার আলো। টানা অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের পর সোমবার লেনদেনের শুরু থেকেই বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে ইতিবাচক ধারা দেখিয়েছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। সূচকের এই শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের মাঝে নতুন করে আস্থা ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যেই ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৭৫ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৫৪৩ পয়েন্টে। দিনের শুরু থেকেই সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল স্পষ্ট। লেনদেন শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে যায়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হয়। এরপর মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে সূচক আরও ২৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। লেনদেনের ২০ মিনিট পর সূচক ৬৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৫৩১ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা বাজারের শক্তিশালী অবস্থানকে তুলে ধরে।

শুধু সাধারণ সূচকই নয়, ডিএসইর অন্যান্য সূচকেও একই রকম ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে ১১০৪ পয়েন্টে অবস্থান নেয় এবং ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২১৩৪ পয়েন্টে। সূচকের এই সমন্বিত উত্থান প্রমাণ করে যে বাজারের বিভিন্ন খাতেই ক্রয়চাপ ছিল এবং বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়ভাবে লেনদেনে অংশ নিচ্ছিলেন।

লেনদেনের পরিমাণও ছিল উল্লেখযোগ্য। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে মোট ১৮৫ কোটি ৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। দিনের শুরুতেই এত বড় অঙ্কের লেনদেন বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। মোট লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩৭টির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে মাত্র ১৪টির দাম কমেছে এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিল শক্তিশালী এবং বিক্রেতাদের চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলোর তালিকায় ছিল দেশের কয়েকটি সুপরিচিত ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠান। সিটি ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, খান ব্রাদার্স, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রবি, যমুনা ব্যাংক, অলিম্পিক, সামিট পোর্ট, ঢাকা ব্যাংক এবং ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে ছিল। এই কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাজারের সামগ্রিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮০ পয়েন্ট বেড়ে ১৫ হাজার ৩৮২ পয়েন্টে অবস্থান নেয়। লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকের এই ঊর্ধ্বমুখী গতি বাজারের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।

সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সিএসইতে মোট ৯৮ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময় ২৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও লেনদেনের পরিমাণ ডিএসইর তুলনায় কম, তবুও সূচকের এই ঊর্ধ্বগতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে কিছু ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতিগত সহায়তা এবং বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ বিনিয়োগকারীদের নতুন করে বাজারমুখী করছে।

অনেক বিনিয়োগকারী দীর্ঘদিন পর এমন শক্তিশালী উত্থান দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে লোকসানে ছিলেন, তারা নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা দেখছেন। বাজারের এই উত্থান তাদের জন্য শুধু সংখ্যার পরিবর্তন নয়, বরং একটি মানসিক স্বস্তিও এনে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পুঁজিবাজার একটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতি আস্থা বাড়ায় এবং বিনিয়োগ পরিবেশকে শক্তিশালী করে। তারা মনে করছেন, এই ধারা বজায় থাকলে ভবিষ্যতে বাজার আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারে।

তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছেন, বাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হলে বিনিয়োগকারীদের সচেতন থাকতে হবে এবং গুজব বা আবেগের ভিত্তিতে বিনিয়োগ না করে বাস্তব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পুঁজিবাজারে এমন উত্থান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এটি একটি ইতিবাচক ধারার সূচনা হতে পারে। তবে এই ধারা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে বাজারের মৌলিক ভিত্তি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর।

দিনের শুরুতেই সূচকের এই শক্তিশালী উত্থান প্রমাণ করে যে পুঁজিবাজার আবারও প্রাণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। বিনিয়োগকারীরা এখন অপেক্ষা করছেন দিনের শেষে বাজার কোন অবস্থানে গিয়ে দাঁড়ায় এবং এই ইতিবাচক প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে কতটা অব্যাহত থাকে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে নানা চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গেলেও, এমন উত্থান বাজারের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু বিনিয়োগকারীদের জন্য নয়, বরং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও আশাব্যঞ্জক একটি বার্তা বহন করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত