সেবাক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর ব্যবস্থা: ভূমিমন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ভূমি মন্ত্রণালয় দেশের সেবাক্ষেত্রে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “সরকার সেবাক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতি বন্ধ করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। যেকোনো অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্ত্রী জানান, মন্ত্রণালয় সেবার মান উন্নয়নের জন্যই এই নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সেবা জনগণের জীবনযাত্রার সাথে সরাসরি জড়িত। তাই ঘুষ-দুর্নীতি, অসদাচরণ বা দায়িত্বহীনতা সহ্য করা হবে না। প্রতিটি অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান এবং প্রমাণের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নিশ্চিত করেন, এতে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে জবাবদিহিতা বাড়বে এবং নাগরিকদের অধিকার রক্ষা নিশ্চিত হবে।

বিভিন্ন সময়ে সেবাক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। বিশেষ করে ভূমি অফিসে লেনদেন ও দলিল প্রক্রিয়াজাতকরণে অনিয়মের অভিযোগ জনগণ মাঝে মাঝে করে থাকেন। ভূমিমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, এই ধরনের অভিযোগে সরকার কোনোভাবে ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, “আমরা চাই সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সকল নাগরিক সমান অধিকার পাবে। কেউই অন্যায়ের শিকার হবেন না।”

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের জন্য সিস্টেমে স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো হচ্ছে। ভূমি অফিসে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা ও নিয়মিত নিরীক্ষণের মাধ্যমে ঘুষ-দুর্নীতি কমানো হবে। একই সঙ্গে নাগরিকদের অভিযোগ জানাতে সহজ মাধ্যম প্রদান করা হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবা খাতে ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারিভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করাটা সময়োপযোগী এবং প্রয়োজনীয়। এটি সাধারণ নাগরিকের জন্য সেবা সহজ করবে এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমাবে। তারা আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে জবাবদিহিতা ও সততা নিশ্চিত করাও জরুরি।

মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা চাই, ভূমি সংক্রান্ত প্রতিটি সেবা কার্যক্রম সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হোক। এর মাধ্যমে নাগরিকরা ঘুষ-দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পাবে। যারা দায়িত্বে অমনোযোগী বা অনিয়মে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি নিশ্চিত করেন, এই নীতি শুধু উদাহরণস্বরূপ নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রমাণ করা হবে যে কেউ অসদাচরণ করলে ছাড় পাবেন না।

জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভূমিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “সেবা খাতে এই নীতি কার্যকর হলে নাগরিকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। কেউই দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।” তিনি সাংবাদিকদের জানান, মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যা সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই পদক্ষেপের ফলে দেশের ভূমি সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নাগরিকমুখী হবে। দীর্ঘমেয়াদে এটি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করবে এবং সরকারি সেবা খাতে ঘুষ-দুর্নীতির প্রবণতা কমাবে। নাগরিকদের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয় অনলাইন আবেদন, ই-ডকুমেন্ট সিস্টেম এবং অভিযোগ জানার স্বচ্ছ পদ্ধতি চালু করছে, যা জিরো টলারেন্স নীতিকে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।

ভূমিমন্ত্রী এই উদ্যোগকে সরকারের নাগরিকমুখী সেবার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা চাই, নাগরিকরা সরকারি সেবায় অংশগ্রহণে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।”

সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নীতি অনুসারে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করতে ভূমিমন্ত্রী সতর্ক করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।

এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে, ভূমি মন্ত্রণালয় ঘুষ-দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। নাগরিকদের জন্য আরও দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে, যাতে কেউ অন্যায়ের শিকার না হন এবং দেশের সেবাখাতের মান উন্নত হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত