প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের আবহাওয়ার প্যাটার্নে এক সপ্তাহ ধরে চরম অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষত রাজধানী ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বাতাসে আর্দ্রতার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার জন্য যে পূর্বাভাস দিয়েছে, তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পাঁচটি বিভাগে একাধিক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিকে দেশের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
রাজশাহী ও রংপুরের নানান জেলায় ইতিমধ্যেই আকাশে গর্জন শোনা যাচ্ছে এবং স্থানভিত্তিক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় উষ্ণ দিনের পরিপ্রেক্ষিতে রাতের দিকে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ঢাকা শহরে দুপুর এবং সন্ধ্যার দিকে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটতে পারে।
আজকের দিনের তাপমাত্রা দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য পরিবর্তন হবে না, যার ফলে আবহাওয়া সারা দেশে তুলনামূলকভাবে শীতল এবং আর্দ্রতাসম্পন্ন থাকবে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগান আবহাওয়া অফিসে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকার কারণে আকাশ পরিষ্কার না থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবারও দেশের আবহাওয়া অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকবে এবং শুষ্ক থাকতে পারে। এদিন রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। শুক্রবার সারা দেশে দিনের ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সময়ে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল হওয়ায় কৃষি, যাতায়াত এবং নাগরিক জীবনে কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে লোডশেডিং, জলাবদ্ধতা ও যানজটের সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রপাত চলাকালীন খোলা জায়গায় অবস্থান এড়িয়ে চলা এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
বৃষ্টিপাতের এই পূর্বাভাস দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভেজা আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিজমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগাবে, যা শাকসবজি, ফসল ও বীজ বপনের জন্য সহায়ক হতে পারে। তবে নগর এলাকায় সঠিক জলনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় হালকা বৃষ্টিও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করতে পারে।
দেশের পাঁচটি বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়ার পেছনে বঙ্গোপসাগরের আর্দ্র বায়ুর ঢেউ, উত্তর-পূর্ব ভারতের আর্দ্রতা প্রবাহ এবং স্থানীয় তাপমাত্রার ওঠানামার প্রভাব উল্লেখযোগ্য। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই ধরণের মৌসুমি অস্থিরতা সাধারণত ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বেশি দেখা যায়, বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বড় শহরগুলোতে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবারের পর দেশের আবহাওয়া ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হতে পারে। তবে আগামি কয়েকদিনে বজ্রসহ বৃষ্টি এবং আংশিক মেঘলা আবহাওয়ার ফলে দিনের তাপমাত্রা হালকা বৃদ্ধি পেতে পারে। রাতের তাপমাত্রা পূর্বের মতোই শীতল থাকতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর সারা দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানাচ্ছে।
উপসংহারে, দেশের পাঁচটি প্রধান বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, যা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও কৃষি ও পরিবেশের জন্য উপকারী। সাধারণ মানুষকে আংশিক মেঘলা ও বজ্রপাতসহ আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে। বিশেষত নগর ও শহরতলি অঞ্চলে যানজট, জলাবদ্ধতা এবং বৈদ্যুতিক ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।