টমেটো: স্বাস্থ্যের জন্য জাদুকরী ৮ গুণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার
টমেটোর জাদুকরী ৮ গুণ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সব ঋতুতেই স্বাস্থ্য বজায় রাখতে শাক-সবজি অপরিহার্য হলেও রাঁধনিতে স্বাদ এবং পুষ্টি দুইই যোগ করতে লাল টমেটোর গুরুত্ব অপরিসীম। সারা বছরই বিভিন্ন রেসিপিতে, সালাদে বা চাটনি হিসেবে টমেটো ব্যবহার করা হয়। শুধু স্বাদই নয়, টমেটোতে রয়েছে নানা ধরনের পুষ্টিগুণ, যা শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। লাল বা সবুজ যেকোনো ধরনের টমেটোতেই রয়েছে জাদুকরী গুণ।

টমেটোর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর কম ক্যালোরি। প্রতি ১০০ গ্রামে মাত্র ১৮ ক্যালোরি থাকার কারণে এটি ডায়েটের জন্য আদর্শ। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য টমেটো একটি নিরাপদ এবং পুষ্টিকর বিকল্প। একই সঙ্গে টমেটো ভিটামিন সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ এবং ভিটামিন বি৬। ভিটামিন সি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ভিটামিন কে হাড়ের জন্য উপকারী, ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখে, আর ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।

টমেটোতে রয়েছে লাইকোপিন নামের শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত টমেটো খেলে হার্টের স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া এতে থাকা পটাসিয়াম এবং ম্যাঙ্গানিজ হার্ট ও মাংসপেশি সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া টমেটোতে প্রায় ৯৪ শতাংশ পানি থাকে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং গরমে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হয়।

টমেটোতে প্রচুর আঁশ থাকে, যা হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। আঁশের উপস্থিতি অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া টমেটোতে থাকা ভিটামিন এ চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিয়মিত টমেটো খেলে চুল ঝলমল করে, শক্তিশালী থাকে এবং দ্রুত ক্ষয় হয় না। চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত রাখতেও ভিটামিন এ অপরিহার্য, তাই টমেটো নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখলে চোখের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।

অন্য এক দিক থেকে টমেটো কিডনির জন্যও উপকারী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বীজসহ টমেটো খেলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নেমে আসে। এটি কিডনির স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিডনি রোগের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া টমেটোতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পুষ্টি উপাদান রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণ, লিভারের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দেহের প্রদাহ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

টমেটো শুধু কাঁচা খাওয়ার জন্য নয়, রান্নায় ব্যবহারেও এটি অতুলনীয়। টমেটোর চাটনি, সস, স্যুপ এবং সালাদে স্বাদ বৃদ্ধি করে। রান্না করলে লাইকোপিনের কার্যকারিতা আরও বেড়ে যায়, যা হার্টের জন্য অত্যন্ত উপকারী। শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলেই নিয়মিত টমেটো খেলে শরীর সুস্থ রাখতে পারে।

পরিশেষে বলা যায়, টমেটো কেবল স্বাদের জন্য নয়, বরং এটি স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যও এক প্রাকৃতিক জাদু। নিয়মিত টমেটো খেলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, চোখ ও চুলের স্বাস্থ্য রক্ষা, কিডনির সুস্থতা এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি সম্ভব। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টমেটো রাখা প্রতিটি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত