সিটি নির্বাচন হবে মেয়াদ অনুযায়ী: এলজিআরডি মন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ বার
সিটি করপোরেশন নির্বাচন তথ্য

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের অন্যান্য বড় সিটি করপোরেশনে আগামী নির্বাচনের সূচি নিয়ে সরকার স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার জানান, দেশের সব সিটি করপোরেশন মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভবিষ্যতে এই নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার হবে কি না, তা শেষ পর্যন্ত সংসদে নির্ধারণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, “মেয়াদ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলীয় প্রতীকে ভবিষ্যতে সিটি নির্বাচন হবে কি-না, সেটা সংসদে নির্ধারণ করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পৌরসভায় রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। এই মন্তব্য মূলত চলমান বিতর্ক এবং দলীয় প্রতীকে সিটি নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের প্রেক্ষাপটে এসেছে।

মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়ে রাজনৈতিক প্রশাসকরা জনসেবা কার্যক্রমে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। তাই এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদিন সকালে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নতুন প্রশাসকরা মন্ত্রীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানপত্র জমা দেন।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা জানিয়েছেন, তারা মশা নিধন, যানজট নিয়ন্ত্রণ, রাস্তাঘাট মেরামত এবং দুর্নীতি রোধের মতো মূল কাজের ওপর অগ্রাধিকার দেবেন। দীর্ঘদিন ধরে কার্যহীন থাকা সিটি করপোরেশনগুলোতে জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় এবং রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় জনগণের আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। নির্বাচনের সময়সূচি অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণ করা হবে এবং প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভেন্যু ও নির্বাচনী লজিস্টিকস ঠিক করা হবে। মন্ত্রীও বারবার এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন যে, প্রশাসন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মেয়াদ অনুযায়ী সিটি করপোরেশন নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা যাচ্ছে। দলীয় প্রতীকের বিষয়টি সংসদে আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এটি নির্বাচনের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।

সিটি করপোরেশনগুলোর প্রশাসকরা যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় মন্ত্রী আরও বলেন, “নির্বাচনের পূর্বে প্রশাসন শক্তিশালী ও কার্যকর হতে হবে। জনগণের নাগাল পৌঁছানো এবং সেবা প্রদানের মান উন্নত করতে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”

এছাড়া নতুন প্রশাসকরা জানিয়েছেন, তারা শহরের নাগরিক সুবিধা উন্নয়নের পাশাপাশি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক দুর্নীতি রোধে নজর দেবেন। মশা ও স্বাস্থ্যবিধি, যানজট ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রাস্তাঘাট মেরামতসহ নানা সমস্যা সমাধানে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে তারা সেবা নিশ্চিত করবেন।

এই পদক্ষেপের ফলে দেশের বড় শহরগুলোতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মান বৃদ্ধি পাবে। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস অনুযায়ী, সিটি করপোরেশনগুলোর উন্নয়ন এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক প্রশাসকরা সমন্বিতভাবে কাজ করবেন।

নির্বাচনের সময়সূচি, প্রশাসক নিয়োগ এবং দলীয় প্রতীকের ব্যবহার—বিষয়গুলো নিয়ে সরকারের স্পষ্ট মনোভাব ও পদক্ষেপ জনসাধারণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর থাকা সিটি করপোরেশনগুলোর কার্যক্রম পুনঃসংগঠনের জন্য এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত