টেলিটকের দৃশ্যমান উন্নয়ন চান আইসিটি মন্ত্রী

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৮ বার
টেলিটক উন্নয়নে মন্ত্রীর নির্দেশ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক-এর সেবায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ের মধ্যেই যেন জনগণ টেলিটকের উন্নত ও নির্ভরযোগ্য সেবা বাস্তবে অনুভব করতে পারে—সেই লক্ষ্য সামনে রেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে টেলিটকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আলোচনায় টেলিটকের বর্তমান অবস্থা, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, গ্রাহকসেবা মানোন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।

মন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, সরকার জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং টেলিটককে সেই লক্ষ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা চাই মানুষ যেন বাস্তবে টেলিটকের সেবার উন্নতি দেখতে পায়। শুধু পরিকল্পনা বা কাগজে নয়, বাস্তব ব্যবহারে সেবার মান বৃদ্ধি পেতে হবে।” তিনি আরও বলেন, দেশের টেলিযোগাযোগ খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাষ্ট্রীয় অপারেটরকে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে আনতে হবে।

সভায় আলোচনার সময় তিনি বিশেষভাবে জোর দেন গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নের ওপর। মন্ত্রীর মতে, টেলিযোগাযোগ খাতে এখন গ্রাহকের সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড় সূচক। নেটওয়ার্কের মান, কল ড্রপের হার, ইন্টারনেটের গতি, কাস্টমার কেয়ারের দক্ষতা—সব ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান উন্নয়ন না হলে প্রতিষ্ঠানটির প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে না। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, সেবার মানসিকতা ও জবাবদিহিও বাড়াতে হবে।

উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে টেলিটকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কর্মকর্তাদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত লক্ষ্যগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহায়তা দেবে। তার মতে, রাষ্ট্রীয় অপারেটর হিসেবে টেলিটকের সফলতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়, বরং তা দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ডিজিটাল অগ্রগতির প্রতীক।

সভায় আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশে বেসরকারি মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টেলিটককে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ফোরজি ও ভবিষ্যৎ ফাইভজি প্রযুক্তির জন্য অবকাঠামোগত প্রস্তুতি জোরদার করা প্রয়োজন। কর্মকর্তারা জানান, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি স্থাপনের কিছু প্রকল্প ইতিমধ্যে চলমান রয়েছে এবং সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান সভায় বলেন, টেলিটকের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, নীতিগত সহায়তা, বাজেট বরাদ্দ এবং প্রযুক্তিগত অনুমোদনের বিষয়গুলো দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত হবে।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী প্রতিষ্ঠানটির চলমান কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, গ্রাহকসেবার মান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে একাধিক প্রকল্প হাতে রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সরকারের সরাসরি নির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলে টেলিটক অদূর ভবিষ্যতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাত বর্তমানে দ্রুত বিকাশমান এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিস্তারের সঙ্গে এর গুরুত্ব আরও বাড়ছে। অনলাইন শিক্ষা, ই-কমার্স, ডিজিটাল ব্যাংকিং, টেলিমেডিসিনসহ বিভিন্ন খাতে ইন্টারনেট নির্ভরতা বাড়ার কারণে নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক এখন মৌলিক চাহিদার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় অপারেটর হিসেবে টেলিটকের কার্যকর ভূমিকা দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, টেলিটক যদি সেবার মান উন্নত করতে পারে এবং প্রতিযোগিতামূলক প্যাকেজ দিতে সক্ষম হয়, তবে তা বাজারে ভারসাম্য তৈরি করবে এবং গ্রাহকরা লাভবান হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাভের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতাও পালন করতে পারবে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে।

মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ উন্নত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু প্রযুক্তিগত সুবিধাই নয়, বরং মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে। দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়াশোনা করতে পারে, রোগী দূর থেকে চিকিৎসা পরামর্শ পায় এবং ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে। তাই টেলিটকের উন্নয়নকে অনেকেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে মনে করেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় অবকাঠামো শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ, সাশ্রয়ী ডাটা প্যাকেজ চালু এবং গ্রাহক অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির মতো বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

সমগ্র আলোচনা থেকে পরিষ্কার হয়েছে, সরকার টেলিটককে শুধু একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখতে চায়। তাই দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে শীর্ষ পর্যায়ের এই নির্দেশনাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত নির্দেশনা বাস্তবায়নে কত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং তা কতটা সময়ের মধ্যে সাধারণ গ্রাহকের হাতে বাস্তব সুফল পৌঁছে দিতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত