প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা রেলপথ। প্রতিবছরের মতো এবারও যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঈদের সময় রাজধানী ও বড় শহরগুলো থেকে লাখো মানুষ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। এই বিপুল চাপ সামাল দিতে রেলওয়ে প্রশাসন এবারও বিশেষ ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি, বিশেষ ট্রেন সংযোজন এবং যাত্রী ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত নজরদারি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হবে। অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে পাওয়া যাবে। কর্তৃপক্ষ বলছে, অঞ্চলভিত্তিক ভিন্ন সময় নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো অনলাইন ও কাউন্টার উভয় ব্যবস্থায় চাপ কমানো এবং সার্ভার জটিলতা বা দীর্ঘ লাইনের মতো সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একই সময়ে সব অঞ্চলের টিকিট বিক্রি শুরু হলে সিস্টেমে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং যাত্রীদের অসন্তোষ বাড়ে। তাই এবার সময় আলাদা করে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ ট্রেন সার্ভিস

ঈদ উপলক্ষে যাত্রী চাপ সামাল দিতে এবার পাঁচ জোড়া, অর্থাৎ মোট ২০টি বিশেষ ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ট্রেন মূলত যাত্রী চাহিদা বেশি এমন রুটে চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানান, ঈদের আগে কয়েকদিন এবং ঈদের পর কয়েকদিন এসব বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে, যাতে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি যেতে ও ফিরতে পারেন। অতিরিক্ত ট্রেন চালুর ফলে নিয়মিত ট্রেনগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং টিকিট না পেয়ে যাত্রীদের হতাশ হওয়ার সম্ভাবনাও কমবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের সময় ট্রেনযাত্রা নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রেলওয়ে পুলিশ ও স্টেশন ব্যবস্থাপনা সমন্বিতভাবে কাজ করবে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি থাকবে এবং অনলাইন টিকিটিং প্ল্যাটফর্মে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের ভিড়ের সময় টিকিট জালিয়াতি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের মতো অনিয়ম বাড়ে। তাই এবার শুরু থেকেই কঠোর নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি সাধারণত যাত্রার নির্দিষ্ট কয়েক দিন আগে শুরু হয় এবং প্রতিটি দিনে নির্দিষ্ট তারিখের টিকিট বিক্রি করা হয়। এতে যাত্রীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রার দিন নির্বাচন করতে পারেন। যদিও নির্দিষ্ট তারিখভিত্তিক সূচি বিস্তারিতভাবে আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন, তবে সময়সূচির কাঠামো আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যাতে যাত্রীরা প্রস্তুতি নিতে পারেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ঈদযাত্রা শুধু পরিবহন ব্যবস্থার পরীক্ষা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনারও বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে সীমিত অবকাঠামো, অন্যদিকে বিপুল যাত্রী চাপ—এই দুইয়ের সমন্বয় করেই পরিবহন সংস্থাগুলোকে কার্যক্রম চালাতে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, রেলপথ তুলনামূলক নিরাপদ ও সাশ্রয়ী হওয়ায় ঈদের সময় ট্রেনের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। তাই অগ্রিম পরিকল্পনা ও সময়সূচি ঘোষণা যাত্রীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে কাজ করে।
ঈদের অগ্রিম ও ফেরত টিকিট বিক্রির সময়সূচি

অভিজ্ঞ যাত্রীরা বলছেন, আগাম ঘোষণা থাকলে টিকিট সংগ্রহ সহজ হয় এবং ভিড় এড়ানো যায়। অনেকে আবার অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থাকে সবচেয়ে কার্যকর মনে করেন, কারণ এতে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থাকে না। তবে প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে মাঝে মাঝে অনলাইন সেবা বিঘ্নিত হয়, যা রেলওয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সমাধান করা যায়।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টিকিট বিক্রি নয়, ট্রেনের সময়নিষ্ঠতা নিশ্চিত করাও ঈদযাত্রার বড় বিষয়। কারণ যাত্রীরা যদি নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারেন, তাহলে পুরো ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমে যায়। তাই এবার সময়সূচি মেনে ট্রেন পরিচালনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্টেশনগুলোতে যাত্রী নির্দেশনা, ঘোষণা ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা জোরদার করার কথাও বলা হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এবারের ঈদযাত্রা সামনে রেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগেভাগেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। অগ্রিম টিকিট বিক্রির সময়সূচি ঘোষণা, বিশেষ ট্রেন সংযোজন এবং নিরাপত্তা জোরদারের মতো পদক্ষেপগুলো যাত্রীদের স্বস্তি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা নির্ভর করবে বাস্তব প্রয়োগের ওপর। যদি ঘোষিত পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এবারের ঈদযাত্রা আগের তুলনায় অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।